ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

জামায়াত জোটে ধাক্কা: আসন হারানোর শঙ্কা

২০২৬ এপ্রিল ২৩ ১৩:১৭:১২

জামায়াত জোটে ধাক্কা: আসন হারানোর শঙ্কা

সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। নির্বাচনী আইনের বাধ্যবাধকতার কারণে জোটটি একটি আসন হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জোট পেয়েছে ৩৬টি আসন, জামায়াত জোট পেয়েছে ১৩টি এবং স্বতন্ত্র জোট পেয়েছে একটি আসন। তবে জামায়াত জোটের একটি মনোনয়ন নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে।

জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী মনিরা শারমিন-এর মনোনয়নপত্র নিয়ে মূল সমস্যা তৈরি হয়েছে। সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের পর তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় তার প্রার্থিতা আইনগতভাবে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

এদিকে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে নুসরাত তাবাসসুম মনোনয়ন জমা দিলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ায় তা গ্রহণ করেনি নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সময়সীমার পরে জমা দেওয়া কোনো মনোনয়ন আইন অনুযায়ী বৈধ নয়।

জানা গেছে, জোটের জমা দেওয়া ১৩টি মনোনয়নের মধ্যে ১২টি ইতোমধ্যে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র স্থগিত রেখে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য সময় দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

আইন অনুযায়ী, সরকারি চাকরি থেকে অবসর বা পদত্যাগের পর অন্তত তিন বছর পূর্ণ না হলে সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করা যায় না। এই বিধান গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এবং জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচন আইনেও উল্লেখ রয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি জটিল হলেও আদালতের মাধ্যমে সমাধান সম্ভব। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট পক্ষ আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে এবং সেখান থেকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।

এদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কোনো আসনে মনোনয়ন বাতিল হলে সেখানে উপনির্বাচনের আয়োজন করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংসদের বর্তমান সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত