ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সবশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিখোঁজ ৯০০ জন
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সমুদ্রপথে পালানোর চেষ্টা রোহিঙ্গাদের জন্য ক্রমেই এক ভয়ংকর বাস্তবতায় পরিণত হচ্ছে। UNHCR-এর সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, ২০২৫ সাল ছিল এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রার ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছরগুলোর একটি। আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা নিখোঁজ হয়েছেন বা প্রাণ হারিয়েছেন, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট করে।
ওই বছর ৬ হাজার ৫০০-এর বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী সমুদ্রপথে পালানোর চেষ্টা করেন। এর মধ্যে প্রতি সাতজনের একজনের মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা বৈশ্বিকভাবে সমুদ্রপথে অভিবাসনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মৃত্যুহারের একটি উদাহরণ। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই যাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের বড় একটি অংশ নারী ও শিশু, এবং ২০২৬ সালেও এই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৮০০ রোহিঙ্গা আবারও এই বিপজ্জনক পথ বেছে নিয়েছেন। গত ২৬ মার্চ বাংলাদেশ থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় প্রায় ২৫০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরবর্তীতে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে মাত্র নয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়, যা পুরো ঘটনার মর্মান্তিক দিকটি তুলে ধরে।
UNHCR জানায়, এসব নৌযান সাধারণত সমুদ্রযাত্রার উপযোগী নয় এবং অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই থাকে। মানবপাচার, শোষণ ও মৃত্যুর ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও রোহিঙ্গারা বাধ্য হয়ে এই পথ বেছে নিচ্ছেন। অধিকাংশ যাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশের কক্সবাজার অথবা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে, যার গন্তব্য থাকে ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়া।
রোহিঙ্গাদের এই ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে গভীর সংকট। Myanmar-এ চলমান সংঘাত, নিপীড়ন এবং নাগরিকত্ব সংকট তাদের নিজ দেশে ফেরার পথ বন্ধ করে রেখেছে। অন্যদিকে Bangladesh-এ অবস্থানরত শরণার্থীদের জন্য তহবিল সংকট, সীমিত শিক্ষা ও জীবিকার সুযোগ এবং নিরাপত্তাহীনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ১২ লাখই বাংলাদেশে আশ্রিত। তবে আন্তর্জাতিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে—২০২৫ সালের যৌথ মানবিক পরিকল্পনার মাত্র ৫৩ শতাংশ অর্থায়ন হয়েছে। ফলে খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য মৌলিক সহায়তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে UNHCR সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে মূল সমস্যাগুলো সমাধান, নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন পথ তৈরি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে। তা না হলে মানবপাচার ও সমুদ্রপথে মৃত্যুর এই মর্মান্তিক চক্র বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- একলাফে কমলো তেলের দাম, ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ ধস
- নবম পে স্কেলে বড় চমক
- ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম প্রধানমন্ত্রীর
- আকাশচুম্বী সোনার দাম: বাংলাদেশে ভরি প্রতি নতুন রেকর্ড ছাড়ালো
- ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর? ২০ গ্রেডের চাকরিজীবীদের জন্য থাকছে যেসব বড় সুবিধা
- ব্রাজিল বনাম মিশর ম্যাচের সময়সূচি জানুন
- বাংলাদেশ-ভারত মহারণসহ ৩১ মে’র জমজমাট খেলার সূচি, রাতে আইপিএল ফাইনাল
- রিয়াদের অবস্থা খুব খারাপ
- আজ রাতে ব্রাজিল বনাম পানামা ম্যাচ: লাইভ দেখার উপায় ও সময়সূচি
- আর্জেন্টিনা বনাম হন্ডুরাস: জেনেনিন মাচের সময়সূচি
- রাতে মাঠে নামছে ব্রাজিল, পানামা ম্যাচটি যেভাবে দেখবেন লাইভ
- টানা তিন দফা কমল সোনার দাম, ২২ ক্যারেট ভরি নেমে এলো
- বাংলাদেশ বনাম ভারত: ৯০ মিনিটের খেলা শেষ, জানুন ফলাফল
- ব্যাপক চমকে শেষ হলো বাংলাদেশ বনাম ভারত ম্যাচ
- বাংলাদেশ বনাম ভারত লাইভ: প্রথমার্ধ শেষ, জানুন ফলাফল