ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

ভারতের ভিসা চালু, তবুও যে কারনে ভারতে যাচ্ছেন না বাংলাদেশিরা

২০২৬ জুলাই ২১ ০০:১৯:৫১

ভারতের ভিসা চালু, তবুও যে কারনে ভারতে যাচ্ছেন না বাংলাদেশিরা

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতের ভিসা পরিষেবা আবার চালু হলেও প্রত্যাশিত সংখ্যায় পর্যটক যাচ্ছেন না। ফলে একসময় বাংলাদেশি পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকা কলকাতার নিউ মার্কেট, মার্কুইস স্ট্রিট ও আশপাশের ব্যবসাকেন্দ্রগুলো এখনো আগের ব্যস্ততা ফিরে পায়নি।

ভিসা কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার পর স্থানীয় ব্যবসায়ী, হোটেল মালিক ও পর্যটনসংশ্লিষ্টরা আশা করেছিলেন, বাংলাদেশি পর্যটকদের আগমনে ব্যবসা আবার চাঙ্গা হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং বিকল্প ভ্রমণ গন্তব্যের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির কারণে অনেক বাংলাদেশি এখন ভারত সফর থেকে দূরে থাকছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক বাংলাদেশি ভ্রমণকারীর মন্তব্যেও এই প্রবণতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, সম্মানজনক পরিবেশ এবং ভ্রমণ অভিজ্ঞতার বিষয়টি এখন আগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। রাজনৈতিক বক্তব্য ও বিভিন্ন ঘটনার খবরও অনেকের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে বলে মত দিয়েছেন তারা। তবে এসব মন্তব্য ব্যক্তিগত মতামত; এ বিষয়ে কোনো সরকারি বা স্বাধীন জরিপের ফল প্রকাশিত হয়নি।

এদিকে গত দুই বছরে ভারতীয় ভিসা সীমিত থাকায় অনেক বাংলাদেশি ব্যবসা ও ভ্রমণের জন্য চীনসহ অন্যান্য দেশের দিকে ঝুঁকেছেন। একই সঙ্গে থাইল্যান্ড, মালদ্বীপ, নেপাল, সিঙ্গাপুর ও শ্রীলঙ্কার মতো গন্তব্যও জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অনেকের মতে, এসব দেশে পর্যটনের পাশাপাশি ব্যবসা ও নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরির সম্ভাবনাও রয়েছে।

কলকাতার ব্যবসায়ীরা বলছেন, তাদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্রেতা বাংলাদেশ থেকে আসতেন। বিশেষ করে নিউ মার্কেট এলাকার অনেক দোকানের বিক্রির বড় অংশই বাংলাদেশি ক্রেতাদের ওপর নির্ভরশীল ছিল। বর্তমানে ক্রেতা কমে যাওয়ায় বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে জানিয়েছেন তারা।

একই অবস্থা হোটেল খাতেও। মার্কুইস স্ট্রিট ও সদর স্ট্রিটের কয়েকজন হোটেল মালিকের দাবি, আগে বছরের অধিকাংশ সময় কক্ষ প্রায় পূর্ণ থাকলেও এখন অনেক রুম দীর্ঘ সময় খালি পড়ে থাকে। এতে পরিচালন ব্যয় ও কর্মীদের বেতন পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

ট্রাভেল এজেন্সি ও ট্যুর অপারেটরদের মতে, বাংলাদেশি পর্যটকদের একটি অংশের মধ্যে ভারত ভ্রমণ নিয়ে মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তাদের ধারণা, পর্যটকদের আস্থা, নিরাপত্তাবোধ এবং স্বাচ্ছন্দ্য ফিরে এলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। অন্যথায় কলকাতার পর্যটননির্ভর ব্যবসা আরও চাপের মুখে পড়তে পারে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত