ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

খনিজ সম্পদ ছাড়াই যেভাবে ধনী হলো ইসরায়েল? আসল তথ্য জানুন

২০২৬ এপ্রিল ১৭ ১৬:২৬:২৪

খনিজ সম্পদ ছাড়াই যেভাবে ধনী হলো ইসরায়েল? আসল তথ্য জানুন

মধ্যপ্রাচ্যের ছোট দেশ Israel—যার উল্লেখযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ নেই—তবুও আজ বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতির একটি। প্রশ্ন উঠতেই পারে, তেল-গ্যাস বা খনিজ সম্পদ ছাড়াই কীভাবে এমন সাফল্য সম্ভব হলো? এর উত্তর লুকিয়ে আছে কৌশল, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের এক অনন্য সমন্বয়ে।

আরও পড়ুন : শুরুতেই ২ উইকেট হারালো বাংলাদেশ, খেলাটি সরাসরি দেখুন এখানে (LIVE)

প্রথমত, ইসরায়েল তাদের অর্থনীতির ভিত্তি হিসেবে বেছে নিয়েছে “মানবসম্পদ”। প্রাকৃতিক সম্পদের সীমাবদ্ধতা তাদের বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি, বরং তা উদ্ভাবনের প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। দেশটি শুরু থেকেই উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ করেছে। ফলে একটি জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে উঠেছে, যেখানে মেধাই প্রধান চালিকাশক্তি।

আরও পড়ুন : জ্বালানি তেল নিয়ে বাংলাদেশের জন্য সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্বে ইসরায়েলকে “স্টার্টআপ নেশন” বলা হয়। কারণ, ছোট দেশ হয়েও এখানে মাথাপিছু স্টার্টআপের সংখ্যা অনেক বেশি। প্রযুক্তি খাতে নতুন নতুন উদ্যোগ, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি ও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টে তারা বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে। বহুজাতিক কোম্পানি যেমন Google এবং Nvidia সেখানে বড় বড় গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করেছে—যা দেশটির প্রযুক্তি খাতকে আরও শক্তিশালী করেছে।

আরও পড়ুন : মুশফিক-সাকিবের ওয়ানডে দলে ফেরা নিয়ে মুখ খুললেন মিরাজ

ইসরায়েলের অর্থনীতিতে গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) খাতের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। তাদের জিডিপির একটি বড় অংশ এই খাতে ব্যয় করা হয়, যা বিশ্বে অন্যতম সর্বোচ্চ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই গবেষণার বড় অংশই বেসরকারি খাত পরিচালনা করে, ফলে বাজারমুখী উদ্ভাবন দ্রুত বাস্তবায়িত হয়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রতিরক্ষা খাত। ইসরায়েলের সামরিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা ইউনিটগুলো—বিশেষ করে ইউনিট ৮২০০—দেশটির প্রযুক্তি খাতের জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে। এই সামরিক অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে বেসামরিক প্রযুক্তি শিল্পে কাজে লাগে, বিশেষ করে সাইবার নিরাপত্তা খাতে।

তবে এই সাফল্যের পাশাপাশি কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। অর্থনীতির বড় অংশ প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় অন্য খাতগুলো তুলনামূলক পিছিয়ে পড়ছে, যা “ডুয়াল ইকোনমি” সমস্যা তৈরি করছে। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা ভবিষ্যতের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রাকৃতিক সম্পদ না থাকলেও সঠিক নীতি, শিক্ষা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিনির্ভর পরিকল্পনার মাধ্যমে Israel একটি শক্তিশালী অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। এটি প্রমাণ করে—সম্পদের চেয়ে সঠিক ব্যবস্থাপনাই একটি দেশের উন্নতির মূল চাবিকাঠি।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত