ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নতুন নিয়মে খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, কমবে খরচ ও দালাল নির্ভরতা

২০২৬ এপ্রিল ১১ ০৯:৪৫:০৭

নতুন নিয়মে খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, কমবে খরচ ও দালাল নির্ভরতা

দীর্ঘ প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর আবারও বাংলাদেশিদের জন্য উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে Malaysia-এর শ্রমবাজার। তবে এবার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন, যা প্রবাসী কর্মীদের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে দালাল নির্ভরতা কমানো এবং খরচ নিয়ন্ত্রণে আনতেই নতুন এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

২০২৪ সালের জুনে নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর সম্প্রতি মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক শহর Putrajaya-তে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে অংশ নেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী V. Sivakumar Ramana (আর রামানান নামে পরিচিত) এবং বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী Ariful Haque Chowdhury-সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বৈঠকে দ্রুত সময়ের মধ্যে স্বচ্ছ ও আধুনিক পদ্ধতিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালুর বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়।

নতুন ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো—বিদেশে যাওয়ার খরচ আর কর্মীদের বহন করতে হবে না। বরং পুরো অভিবাসন ও নিয়োগ ব্যয় বহন করবে নিয়োগকর্তা প্রতিষ্ঠান। এর ফলে সাধারণ কর্মীদের আর্থিক চাপ অনেকটাই কমবে এবং ঋণগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিও কমে আসবে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এবার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর তদারকি ব্যবস্থা। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে আবেদন থেকে শুরু করে চূড়ান্ত নিয়োগ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া মনিটর করা হবে, যাতে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা মধ্যস্বত্বভোগীর হস্তক্ষেপ কমে আসে। শুধুমাত্র অনুমোদিত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত এজেন্সিগুলো এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে।

শ্রমবাজারটি একবারে পুরোপুরি না খুলে ধাপে ধাপে কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে নির্মাণ খাতে প্রায় ৮০০ কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ বাংলাদেশি বৈধভাবে কর্মরত, যা দেশটির মোট বিদেশি শ্রমশক্তির একটি বড় অংশ। শিল্পকারখানা, নির্মাণ খাত এবং কৃষি খামারে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ব্যাপক চাহিদা থাকায় আগামী এক বছরে আরও ৩০ থেকে ৪০ হাজার কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই নতুন প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত রাখতে নিয়মিত তদারকি করা হবে। পাশাপাশি প্রবাসী কর্মীদের অধিকার, নিরাপত্তা এবং উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাও অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, নতুন নিয়মে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালু হওয়া বাংলাদেশের কর্মপ্রত্যাশীদের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করছে, যেখানে কম খরচ, বেশি স্বচ্ছতা এবং নিরাপদ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা একসাথে মিলছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত