ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাজারে গায়েব সয়াবিনের বোতল, সোনালী মুরগির রেকর্ড দাম 

২০২৬ এপ্রিল ১০ ১১:৫১:৪০

বাজারে গায়েব সয়াবিনের বোতল, সোনালী মুরগির রেকর্ড দাম 

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে আবারও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় বোতলজাত সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে ৫ লিটারের বোতল প্রায় বাজার থেকেই উধাও। ক্রেতারা দোকান ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত পণ্য না পেয়ে হতাশ হচ্ছেন। কোথাও কোথাও খোলা তেল পাওয়া গেলেও তা বিক্রি হচ্ছে নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে, যা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকার নির্ধারিত দামে এক লিটার বোতলজাত তেল ১৯৫ টাকা হলেও বাস্তবে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকায়। পাম তেলের ক্ষেত্রেও একই চিত্র—নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, সরবরাহ কমে যাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করছেন। অনেক ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো সরাসরি তেলের অর্ডার নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে বাজারে শুধু তেল নয়, প্রায় সব ধরনের সবজির দামও বেড়েছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বেশিরভাগ সবজি এখন ৮০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। যদিও পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচের দাম তুলনামূলক কম রয়েছে, তবে সার্বিক বাজার পরিস্থিতি এখনো ক্রেতাদের জন্য স্বস্তিদায়ক নয়।

অন্যদিকে, সোনালী মুরগির দাম এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ঈদের পর থেকেই এই মুরগির দাম বেড়ে রেকর্ড ছুঁয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৪২০ টাকায় বিক্রি হলেও কিছুদিন আগেও এটি ৪৫০ টাকায় উঠেছিল। খামারিদের মতে, বিভিন্ন রোগব্যাধির কারণে মুরগির উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়ছে।

ডিমের বাজারেও দেখা গেছে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। প্রতি ডজন ডিম এখন ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কিছু এলাকায় ১৩০ টাকাও ছাড়িয়েছে। সব মিলিয়ে নিত্যপণ্যের বাজারে এই অস্থিরতা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত