ঢাকা, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

গোপনে ফাঁস মার্কিন ঘাঁটির তথ্য! যেভাবে ইরানের হাতে পৌঁছাচ্ছে সব লোকেশন

২০২৬ এপ্রিল ০৭ ১৫:৩১:৫৭

গোপনে ফাঁস মার্কিন ঘাঁটির তথ্য! যেভাবে ইরানের হাতে পৌঁছাচ্ছে সব লোকেশন

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোর অবস্থান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক এক গোয়েন্দা মূল্যায়নে উঠে এসেছে, রাশিয়ার স্যাটেলাইট নজরদারির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে তা ইরানের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এই গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী রুশ স্যাটেলাইট মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা সামরিক ঘাঁটি, বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনার ওপর নিবিড় নজরদারি চালিয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে এমন স্থানগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মূল্যায়নে বলা হয়েছে, মার্চ মাসের শেষার্ধে অন্তত ১১টি দেশে প্রায় ৪৬টি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ওপর একাধিকবার নজরদারি চালানো হয়। এসব তথ্য সংগ্রহের কয়েক দিনের মধ্যেই কিছু স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা গোয়েন্দা মহলে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সৌদি আরবের কিং খালিদ মিলিটারি সিটি, তুরস্ক, জর্ডান, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ঘাঁটি এই নজরদারির আওতায় ছিল বলে জানা গেছে। এছাড়া Strait of Hormuz-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একাধিক নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, এই তথ্য আদান-প্রদানের জন্য একটি স্থায়ী যোগাযোগ চ্যানেল ব্যবহার করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় হচ্ছে। একই সঙ্গে সাইবার ক্ষেত্রেও দুই দেশের হ্যাকার গ্রুপগুলো যৌথভাবে কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। যদিও White House বলেছে, বাইরের কোনো সহায়তা তাদের সামরিক অভিযানে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে স্যাটেলাইট নজরদারি ও সাইবার হামলার মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে ভবিষ্যতে সংঘাতের ধরন আরও পরিবর্তিত হতে পারে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত