ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

নারী সেজে ছাত্রদল নেতার টিকটক, বহিষ্কারের পর যা বললেন

২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১৯:৫০:৫০

নারী সেজে ছাত্রদল নেতার টিকটক, বহিষ্কারের পর যা বললেন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। নারী সেজে টিকটক করার অভিযোগে ছাত্রদলের এক নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, যা স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

জানা যায়, কসবার সৈয়দাবাদ আদর্শ মহাবিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন Redowan Islam। তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে Bangladesh Jatiyatabadi Chhatra Dal। জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন খানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির সময় দেওয়া বায়োডাটায় নিজের লিঙ্গ পরিচয় গোপন করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে তদন্তের পর তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে বহিষ্কারের পর এক ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন রেদোয়ান ইসলাম। তিনি বলেন, তাকে তার যোগ্যতা বিবেচনা করেই কমিটিতে রাখা হয়েছিল এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে তার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার ভাষায়, “কে ছেলে আর কে মেয়ে—এটা বড় বিষয় হওয়া উচিত নয়, বরং যার যে যোগ্যতা আছে সে সেই অনুযায়ী কাজ করবে।”

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব Samir Chakraborty জানান, প্রাথমিকভাবে একটি ছোট কমিটি থাকলেও পরে ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সংগঠন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়ভাবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে সংগঠনের শৃঙ্খলা রক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বিষয়টিকে ব্যক্তিগত পরিচয় ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে যুক্ত করে আলোচনা করছেন।

বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তুমুল আলোচনা চলছে, যা শুধু একটি সংগঠন নয়, বরং বৃহত্তর সামাজিক বাস্তবতা ও গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নও সামনে এনে দিয়েছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত