ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

যে কৌশলে একই দিনে দুটি মার্কিন বিমান শনাক্ত ও ভূপাতিত করল ইরান

২০২৬ এপ্রিল ০৪ ১৬:১৬:২৪

যে কৌশলে একই দিনে দুটি মার্কিন বিমান শনাক্ত ও ভূপাতিত করল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে এক বিরল সামরিক ঘটনার জন্ম দিয়েছে ইরান। দীর্ঘদিন পর সরাসরি সংঘর্ষে একই দিনে দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আগে যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সামরিক সক্ষমতা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছিলেন, সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো সেই ধারণাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান প্রথমে একটি F-15E Strike Eagle যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে, যেখানে দুইজন ক্রু সদস্য ছিলেন। তাদের মধ্যে একজনকে উদ্ধার করা গেলেও অন্যজন এখনও নিখোঁজ। একই সময়ে ইরানের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে যে একটি A-10 Warthog বিমানও আঘাতের শিকার হয়েছে। এই ঘটনাগুলো এমন সময় ঘটেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ধারাবাহিক হামলার মাধ্যমে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করে দিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সাফল্যের পেছনে ইরান প্রচলিত রাডারনির্ভর পদ্ধতি বাদ দিয়ে ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করেছে। তারা ব্যবহার করেছে অপটিক্যাল ও ইনফ্রারেড সেন্সর প্রযুক্তি, যা শত্রু বিমানের তাপমাত্রা শনাক্ত করে লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারে। এই ধরনের ‘প্যাসিভ সেন্সর’ প্রযুক্তি রাডারের মতো সহজে ধরা পড়ে না, ফলে শত্রুপক্ষের জন্য তা প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বিমানের ইঞ্জিন থেকে নির্গত তাপ বা বাতাসের ঘর্ষণে তৈরি তাপ শনাক্ত করেই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব হয়।

ধারণা করা হচ্ছে, এই অভিযানে ইরানের নিজস্ব তৈরি স্বল্প-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘মাজিদ’ ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। ২০২১ সালে উন্মোচিত এই প্রযুক্তি নিচু উচ্চতায় উড়ন্ত লক্ষ্যবস্তু যেমন ড্রোন, হেলিকপ্টার বা যুদ্ধবিমান শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম। প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত এটি কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে এবং দ্রুত আঘাত হানতে পারে।

তবে সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক যুদ্ধবিমান যেমন F-15 বা A-10 সহজে ভূপাতিত করা সম্ভব নয়। এসব বিমানে থাকে উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যেমন ফ্লেয়ার, ডিকয় এবং তাপ বিভ্রান্তকারী প্রযুক্তি। তাই ইরানের এই সাফল্যকে তারা ‘সুযোগসন্ধানী এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতির সদ্ব্যবহার’ হিসেবে দেখছেন—যেখানে কম উচ্চতা, কাছাকাছি দূরত্ব এবং প্রতিরক্ষার দুর্বল মুহূর্তকে কাজে লাগানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে এই ঘটনা একটি বড় বার্তা দিচ্ছে—চাপের মুখে পড়েও ইরান তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পুরোপুরি হারায়নি। বরং উপযুক্ত সময়ে তারা এখনো কার্যকর পাল্টা আঘাত হানতে সক্ষম, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত