ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সংঘাতের প্রভাব: বাড়লো তেলের দাম

২০২৬ মার্চ ৩০ ১৭:৫৯:২৩

সংঘাতের প্রভাব: বাড়লো তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–এর মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ করেই বেড়ে ১১৫ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে।

বর্তমানে Brent crude oil-এর দাম প্রতি ব্যারেল ১১৬ ডলার ১০ সেন্টে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে WTI crude oil-এর দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০২ ডলার ৩০ সেন্ট। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হয়েছে।

হরমুজ প্রণালির সংকট বড় কারণ

বিশ্ব তেল সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। এটি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।

উত্তেজনা বাড়ার পেছনের কারণ

সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকেও পাল্টা হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, যা বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব

তেলের দাম বাড়ার প্রভাব ইতোমধ্যেই জ্বালানি ও গ্যাসের বাজারে পড়তে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম প্রায় ৩.৯৮ ডলারে পৌঁছেছে। এতে পরিবহন খরচ বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে খাদ্য ও নিত্যপণ্যের দামে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, কারণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত তেলের বড় অংশই এই অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। ফলে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপরও চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কূটনৈতিক উদ্যোগ

সংঘাত নিরসনে পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসর এবং তুরস্ক-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। কূটনৈতিক সমাধান না এলে তেলের বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এখন শুধু আঞ্চলিক সমস্যা নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেলের দাম বাড়তে থাকলে এর প্রভাব বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ে সরাসরি অনুভূত হবে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত