ঢাকা, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মালয়েশিয়ায় নতুন ভিসা নীতি: প্রবাসীদের জন্য বড় ধাক্কা

২০২৬ মার্চ ২৭ ১৬:৫২:৫০

মালয়েশিয়ায় নতুন ভিসা নীতি: প্রবাসীদের জন্য বড় ধাক্কা

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তি Malaysia এবার বিদেশি কর্মীদের জন্য ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর।

নতুন ঘোষণার অনুযায়ী, আগামী জুন মাস থেকে মালয়েশিয়ায় কাজের ভিসা পেতে আগের তুলনায় অনেক বেশি বেতন দেখাতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে এই ন্যূনতম বেতনের সীমা প্রায় দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি, কোনো নিয়োগকর্তা কতদিন পর্যন্ত একজন বিদেশি কর্মীকে স্পনসর করতে পারবেন, সেটির ওপরও নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে।

এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ করেই আসায় প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা—যেমন বাড়ি বা গাড়ি কেনা—নিয়ে ভাবছিলেন, তাদের জন্য এখন অনিশ্চয়তা বেড়ে গেছে।

বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ২১ লাখ নিবন্ধিত বিদেশি শ্রমিক কাজ করেন, যাদের বড় একটি অংশ কম দক্ষ বা কায়িক শ্রমে নিয়োজিত। তাদের গড় মাসিক আয় প্রায় ১,৭০০ রিঙ্গিত (প্রায় ৪৩০ ডলার)। তবে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের একটি ছোট অংশ অর্থনীতি, প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর এবং জ্বালানি খাতে কাজ করছেন, যারা তুলনামূলক বেশি আয় করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই নীতির ফলে মধ্যম ও কম দক্ষ শ্রমিকদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে প্রবেশ কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে নিয়োগদাতাদের খরচও বাড়বে, যা অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য চাপ তৈরি করতে পারে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দেশটি ধীরে ধীরে কম দক্ষ বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে চায়। ২০২৫ সালের জাতীয় নীতিতেও এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিবর্তনের সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর। যদি দক্ষতা উন্নয়ন ও শিল্পখাতে সংস্কার ঠিকভাবে না হয়, তাহলে ব্যবসা ও বিনিয়োগ উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সব মিলিয়ে, মালয়েশিয়ার এই নতুন নীতি প্রবাসীদের জন্য একদিকে যেমন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে, অন্যদিকে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগের দরজাও খুলে রাখছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত