ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

যুদ্ধের ১৩ দিনে কোন দেশে কত মানুষ নিহত

২০২৬ মার্চ ১২ ২০:২৭:৪৫

যুদ্ধের ১৩ দিনে কোন দেশে কত মানুষ নিহত

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ ১৩ দিনে গড়িয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার এই সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যসহ বহু দেশে হামলার ঘটনা ঘটছে। তবে সবচেয়ে বড় ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে ইরান।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ইরানে ১ হাজার ৩৪৮ জন, ইসরায়েলে অন্তত ১৫ জন, মার্কিন ৭ সৈন্য এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে ১৭ জন নিহত হয়েছে।

তবে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হওয়ায় এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।ইরান জানিয়েছে, হামলার জবাবে তারা ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

সংঘাত ও হামলায় যে দেশগুলোতে হতাহত হয়েছে তার সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো।

ইরাননিহত ১৩৪৮আহত প্রায় ১৭ হাজারজাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধি আমির সাইদ ইরাভানি জানিয়েছেন, নিহতদের বয়স ৮ মাস থেকে ৮৮ বছরের মধ্যে।

নিহতদের মধ্যে প্রায় ২০০ জন নারী রয়েছে। মীনাব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৬৮টি শিশু নিহত হয়েছে। এ ছাড়া ১১ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত এবং ৫৫ জন আহত হয়েছেন।ইসরায়েলনিহত ১৫আহত প্রায় ২০০০ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে।

চলতি মাসের প্রথম দিনে ইরানে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৯ জন নিহত হয়।মার্কিন সৈন্যনিহত ৭আহত ১৮মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

বাহরাইননিহত ২আহত কয়েক ডজনমার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় ধ্বংসাবশেষ পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

ইরাকনিহত ২৬আহত অসংখ্যনিহতদের মধ্যে ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীর ২১ যোদ্ধা, ৩ জন ইরানি কুর্দি যোদ্ধা, এরবিল বিমানবন্দরের একজন নিরাপত্তাকর্মী এবং একজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।

জর্ডাননিহত ০আহত ১৪জর্ডান জানিয়েছে তাদের দিকে ১১৯টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া হয়েছে।

কুয়েতনিহত ৬আহত কয়েক ডজনক্ষেপণাস্ত্রের স্প্লিন্টারের আঘাতে এক শিশু এবং দায়িত্ব পালনরত দুই ফায়ার সার্ভিস সদস্য নিহত হন।

লেবানননিহত ৬৮৭আহত প্রায় ১৫০০ইসরায়েলি হামলায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। যুদ্ধের কারণে প্রায় সাত লাখ পঞ্চাশ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন দেশটিতে।

ওমাননিহত ১আহত ৫দুকম বন্দরে ড্রোন হামলা এবং একটি তেল ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

কাতারনিহত ০আহত ১৬আল উদাইদ সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর দেশটির স্কুলগুলোতে অনলাইন শিক্ষা চালু করা হয়েছে।

সৌদি আরবনিহত ২আহত ১২আল খারজ অঞ্চলে একটি আবাসিক এলাকায় প্রজেক্টাইল পড়ার ঘটনায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতনিহত ৬আহত ১৩১নিহতদের মধ্যে পাকিস্তান, নেপাল ও বাংলাদেশের নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুই আমিরাতি সেনা নিহত হয়েছেন।

এদিকে বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৯টি সামরিক স্থাপনা রয়েছে। বাহরাইন, মিশর, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্থায়ী ঘাঁটি রয়েছে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে এই অঞ্চলে প্রায় ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার মার্কিন সৈন্য অবস্থান করছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত