ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

শবে কদরের নামাজের নিয়ত, নিয়ম ও করণীয় আমল

২০২৬ মার্চ ১২ ১৩:০১:৩১

শবে কদরের নামাজের নিয়ত, নিয়ম ও করণীয় আমল

পবিত্র রমজান মাসের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ রাত হলো লাইলাতুল কদর, যা আমাদের দেশে সাধারণভাবে শবে কদর নামে পরিচিত। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী এই রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এই বরকতময় রাতেই মানবজাতির জন্য হেদায়েতের আলোকবর্তিকা পবিত্র কোরআন নাজিল করা হয়।

‘শবে কদর’ শব্দটি মূলত ফারসি ভাষা থেকে এসেছে। এখানে ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘কদর’ অর্থ মর্যাদা, সম্মান বা ভাগ্য নির্ধারণ। আরবি ভাষায় একে বলা হয় ‘লাইলাতুল কদর’, যার অর্থ মর্যাদাপূর্ণ রাত বা ভাগ্য নির্ধারণের রাত। এই রাতে আল্লাহ তাআলা মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করেন এবং অসংখ্য ফেরেশতা পৃথিবীতে অবতরণ করেন।

ইসলামের দৃষ্টিতে এই রাতের গুরুত্ব অপরিসীম। এ রাতে মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগিতে সময় কাটান। নফল নামাজ আদায়, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আযকার, তওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে তারা মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

শবে কদরের নামাজের নিয়ত

শবে কদরের নামাজ পড়ার জন্য আলাদা কোনো বাধ্যতামূলক নিয়ত নেই। নিয়ত মূলত মনের ইচ্ছা। তাই আরবিতে বলা আবশ্যক নয়; মনে মনে নিয়ত করলেও নামাজ আদায় হয়ে যায়। তবে অনেকে এভাবে নিয়ত করতে পারেন—

নিয়ত:নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা রাকআতাই সালাতি লাইলাতিল কদর নাফলি, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শরিফাতি, আল্লাহু আকবার।

অর্থ:আমি কাবামুখী হয়ে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য শবে কদরের দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ার নিয়ত করলাম।

শবে কদরের নামাজের নিয়ম

লাইলাতুল কদরের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বিশেষ নামাজের নিয়ম ইসলামে নির্ধারিত নেই। সাধারণ নফল নামাজের মতোই দুই রাকাত করে নামাজ আদায় করা যায়।

দুই রাকাত করে যত ইচ্ছা নফল নামাজ পড়া যায়

মনোযোগ ও খুশুখুজু সহকারে নামাজ আদায় করা উত্তম

প্রতিটি রাকাতে কোরআনের যে কোনো সূরা তেলাওয়াত করা যাবে

লোকমুখে প্রচলিত আছে যে নির্দিষ্ট কিছু সূরা নির্দিষ্ট সংখ্যায় পড়তে হয়। কিন্তু এ ধরনের নির্দিষ্ট নিয়মের কোনো সহিহ ভিত্তি কোরআন বা হাদিসে পাওয়া যায় না। তবে কেউ চাইলে বেশি বেশি সূরা কদর ও সূরা ইখলাস তেলাওয়াত করতে পারেন।

শবে কদরের রাতে করণীয় আমল

এই পবিত্র রাতে মুসলমানদের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল রয়েছে। যেমন—

বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করা

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা

আল্লাহর জিকির করা

তওবা ও ইস্তিগফার করা

নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা

দোয়া করা

হাদিসে বর্ণিত আছে যে রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করতে বলা হয়েছে। তাই ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ রমজানের রাতগুলোতে বিশেষভাবে ইবাদত করা উত্তম।

শবে কদরের বিশেষ দোয়া

উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে বলা হয়েছে, তিনি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন— যদি আমি লাইলাতুল কদর পেয়ে যাই, তাহলে কী দোয়া পড়ব?

তখন রাসুল (সা.) তাকে এই দোয়া শিখিয়েছিলেন—

اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُّ العَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي

উচ্চারণ:আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন কারীমুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।

অর্থ:হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত