ঢাকা, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

মানুষকে খাওয়ালে সত্যিই কি বরকত আসে?

২০২৬ এপ্রিল ১০ ২২:৩২:৫৫

মানুষকে খাওয়ালে সত্যিই কি বরকত আসে?

সমাজে একসময় একটি সুন্দর ও মানবিক সংস্কৃতি প্রচলিত ছিল—ঘরে ভালো খাবার রান্না হলে তার একটি অংশ প্রতিবেশী বা আশেপাশের মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হতো। এতে শুধু পারস্পরিক সম্পর্কই দৃঢ় হতো না, বরং সামাজিক সম্প্রীতি ও ভালোবাসাও বৃদ্ধি পেত। ইসলাম ধর্মে এই কাজকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সওয়াবের কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবি আবু জার (রা.)-কে উপদেশ দিয়ে বলেছেন, যখন তুমি তরকারি রান্না করবে, তখন তাতে ঝোল একটু বেশি রাখবে এবং প্রতিবেশীকেও তা থেকে কিছু দেবে। (মুসলিম, হাদিস: ৬৬৭৬)

এছাড়া প্রতিবেশীর অধিকার সম্পর্কে ইসলাম এতটাই গুরুত্ব দিয়েছে যে, সাহাবারা মনে করতেন হয়তো একসময় প্রতিবেশীকেও উত্তরাধিকারী হিসেবে নির্ধারণ করা হবে। হাদিসে এসেছে, জিবরাইল (আ.) বারবার প্রতিবেশীর হক সম্পর্কে রাসুল (সা.)-কে উপদেশ দিতে থাকেন, এমনকি তিনি ধারণা করেছিলেন প্রতিবেশীকে হয়তো ওয়ারিশ হিসেবে ঘোষণা করা হবে। (বুখারি, হাদিস: ৫৯২৩)

বর্তমান সময়ে ব্যস্ত জীবনযাপন ও আত্মকেন্দ্রিকতার কারণে এই সুন্দর অভ্যাস অনেকটাই কমে গেছে। আগে যেখানে প্রতিবেশীর সঙ্গে খাবার ভাগ করে নেওয়া স্বাভাবিক বিষয় ছিল, এখন তা অনেক ক্ষেত্রে অনুপস্থিত। অথচ ইসলাম এই দানশীলতা ও মানবিক আচরণকে ঈমানের অংশ হিসেবে দেখেছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, তারা নিজেদের খাবারের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও মিসকিন, এতিম ও বন্দিকে খাদ্য দান করে। (সুরা আদ-দাহর, আয়াত: ৮)

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, নিঃস্বার্থভাবে অন্যকে খাওয়ানো আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় একটি আমল। ইসলাম শিক্ষা দেয়, মানুষকে খাওয়াতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, এতে কোনো পার্থিব প্রতিদান বা প্রশংসার আশা রাখা যাবে না, এবং পুরো কাজটি তাকওয়ার ভিত্তিতে হতে হবে।

অন্যদিকে কোরআনে আরও বলা হয়েছে, যারা খাদ্যের প্রতি ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও অভাবীকে খাদ্য দান করে এবং ধৈর্য ও দয়ার উপদেশ দেয়, তারাই প্রকৃত সৌভাগ্যবান। (সুরা আল-বালাদ, আয়াত: ১৪–১৮)

হাদিসে আরও এসেছে, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস রাখে, সে যেন প্রতিবেশীর সঙ্গে ভালো আচরণ করে এবং মেহমানের সম্মান করে। (মুসলিম, হাদিস: ১৭১)

ইসলামি শিক্ষা অনুযায়ী মেহমানদারি ও মানুষকে খাওয়ানো শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি বরকত বৃদ্ধির মাধ্যম। অনেক আলেমের ব্যাখ্যায় এসেছে, অতিথি তার রিজিক নিয়ে আসে এবং গৃহস্থের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে।

বর্তমান বাস্তবতায় আর্থিক চাপ থাকলেও ইসলাম শেখায়, সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষকে খাওয়ানোর চেষ্টা করলে তা আল্লাহর রহমত ও বরকতের কারণ হতে পারে। পাশাপাশি এটি পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত