ঢাকা, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইরানের নারী ফুটবল দল নিয়ে নতুন ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প: জাতীয় সংগীত বিতর্কে নতুন উত্তেজনা

২০২৬ মার্চ ০৯ ২৩:৫৮:৫৯

ইরানের নারী ফুটবল দল নিয়ে নতুন ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প: জাতীয় সংগীত বিতর্কে নতুন উত্তেজনা

ইরানের নারী ফুটবল দলকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জাতীয় সংগীত নিয়ে প্রতিবাদের ঘটনার পর দলটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তিনি দাবি করেছেন, খেলোয়াড়রা দেশে ফিরলে তাদের জীবনের ঝুঁকি থাকতে পারে এবং প্রয়োজনে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন।

জাতীয় সংগীত না গাওয়ায় বিতর্ক

সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের আগে Iran women's national football team–এর কয়েকজন খেলোয়াড় জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, এমন প্রতিবাদের কারণে খেলোয়াড়রা দেশে ফিরে গেলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের প্রস্তাব

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানি নারী ফুটবল দলকে জোর করে দেশে ফেরত পাঠানো হলে তা বড় ধরনের মানবিক ভুল হবে।

তিনি অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে লিখেছেন, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত। যদি অস্ট্রেলিয়া তা না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের গ্রহণ করতে প্রস্তুত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে

এর আগে ২ মার্চ দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীত না গাওয়ার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়। পরে অবশ্য পরবর্তী ম্যাচগুলোতে খেলোয়াড়রা সংগীত গেয়েছেন।

তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের মতে, প্রথম ম্যাচে সংগীত না গাওয়ার ঘটনাটি রাষ্ট্রের প্রতি ‘অসন্মানের চূড়ান্ত উদাহরণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ায় সমর্থকদের বিক্ষোভ

এই ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত কিছু ইরানি বংশোদ্ভূত মানুষ খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে বিক্ষোভও করেন। তারা স্লোগান দেন—“আমাদের মেয়েদের বাঁচাও।”

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেকের হাতে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগের ইরানের ঐতিহাসিক পতাকাও দেখা যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, খেলাধুলা ও রাজনীতির এই সংযোগ আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও মানবাধিকার প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত