ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

মহানবীর (সা.) সতর্কবাণী: অনেক রোজাদারই বঞ্চিত থাকেন পুরস্কার থেকে

২০২৬ মার্চ ০৪ ১২:১৪:১৩

মহানবীর (সা.) সতর্কবাণী: অনেক রোজাদারই বঞ্চিত থাকেন পুরস্কার থেকে

রমজান আত্মশুদ্ধির মাস। এই মাসে রোজা ও কিয়ামুল লাইল শুধু আনুষ্ঠানিক ইবাদত নয়; বরং আত্মসংযম, নৈতিক সংশোধন ও তাকওয়া অর্জনের প্রশিক্ষণ। কিন্তু বাস্তবতা হলো—সব রোজা সমান সওয়াব বয়ে আনে না, সব রাত জাগরণ আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না।

ইবাদতের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে নিয়তের খালিসত্ব, অন্তরের একনিষ্ঠতা ও আমলের শুদ্ধতার ওপর। এ প্রসঙ্গে হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, মহানবী মুহাম্মদ (সা.) ইরশাদ করেছেন—

“অনেক রোজাদার আছে, যাদের রোজা থেকে ক্ষুধা ছাড়া আর কিছুই অর্জিত হয় না। আর অনেক রাত জাগরণকারী আছে, যাদের কিয়াম থেকে নিদ্রাহীনতা ছাড়া কিছুই মেলে না।”— সুনান ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৬৯০

এই হাদিস আমাদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা। রোজা যদি মানুষকে মিথ্যা, গীবত, প্রতারণা ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখতে না পারে, তবে সেই রোজা কেবল দেহের কষ্টে সীমাবদ্ধ থাকে। আল্লাহর কাছে রোজার মূল্য তখনই, যখন তা চরিত্র গঠন করে, আচরণে পরিবর্তন আনে এবং অন্তরে আল্লাহভীতি জাগ্রত করে।

একইভাবে কিয়ামুল লাইলও তখনই ফলপ্রসূ, যখন তা বিনয়, খুশু-খুজু ও একনিষ্ঠতার সঙ্গে আদায় করা হয়। যদি রাতভর নামাজ পড়েও অন্তর গুনাহে নিমজ্জিত থাকে, যদি লোকদেখানো মনোভাব ইবাদতকে গ্রাস করে, তবে সেই কিয়াম নিছক নিদ্রাহীনতা ছাড়া কিছু নয়।

রমজান আমাদের শেখায়—ইবাদতের বাহ্যিক আড়ম্বর নয়, বরং অন্তরের পরিবর্তনই আসল। রোজা যেন আমাদের ভাষাকে সংযত করে, দৃষ্টি ও মনকে পবিত্র করে, আচরণে আনে নম্রতা ও সততা।

তাহলেই রোজা হবে রহমতের সোপান, আর কিয়ামুল লাইল হবে নূর ও নাজাতের পথ। অন্যথায় ক্ষুধা ও ক্লান্তিই হবে একমাত্র প্রাপ্তি।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত