ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

চরম দু:সংবাদ : যমুনা সার কারখানা বন্ধ, ঝুকিতে উত্তরবঙ্গের ১৯ জেলার কৃষক

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৪ ০৯:১৪:৩৪

চরম দু:সংবাদ : যমুনা সার কারখানা বন্ধ, ঝুকিতে উত্তরবঙ্গের ১৯ জেলার কৃষক

দীর্ঘ ২৩ মাস বন্ধ থাকার পর অতিরিক্ত দামে গ্যাস কিনে যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (জেএফসিএল) আবার উৎপাদনে ফিরেছিল। কিন্তু মাত্র এক মাসের মাথায় আবারও থেমে গেল দেশের অন্যতম বৃহৎ ইউরিয়া উৎপাদনকারী এই কারখানার চাকা। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় পুরো উৎপাদন এখন বন্ধ, আর এ নিয়ে উত্তরবঙ্গের ১৯ জেলার কৃষকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র অনিশ্চয়তা।

গ্যাসের চাপ কমে অচল হলো কারখানা২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর তিতাস গ্যাসের সংযোগ পুনরায় পাওয়ার পর যমুনা সার কারখানা উৎপাদনে ফিরে আসে। কিন্তু—

২২ জানুয়ারি গ্যাসের চাপ নেমে যায় ৮ কেজিতে

১৫ ফেব্রুয়ারি আরও কমে ৫.২ কেজিতে

এমন অবস্থায় উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

কারখানার জিএম (অপারেশন) মো. ফজলুল হক জানান,

“গ্যাসের চাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়ায় প্লান্ট বন্ধ ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। তিতাস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে—রমজান মাসে গ্যাস দেওয়া সম্ভব নয়।”

এখনও কবে উৎপাদন স্বাভাবিক হবে—তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না কেউই।

এক মাসে সম্ভাব্য ক্ষতি—২৩৭ কোটি টাকারও বেশি!স্বল্প গ্যাস চাপের মধ্যেও কারখানাটি দৈনিক গড়ে ১,২০০ টন ইউরিয়া উৎপাদন করছিল। অর্থাৎ:

১ মাসে সম্ভাব্য উৎপাদন হতো: ৩৬,০০০ টন

স্থানীয়ভাবে উৎপাদনে ব্যয়: ৭৯.২০ কোটি টাকা

একই পরিমাণ সার আমদানিতে ব্যয়: ৩১৬.৮০ কোটি টাকা

অতিরিক্ত ক্ষতি: প্রায় ২৩৭.৬০ কোটি টাকা

অর্থনীতিবিদদের মতে,

“এই অতিরিক্ত ব্যয় সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।”

কৃষকেরা বলছেন—যমুনার সারই সবচেয়ে মানসম্মতবাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশনের জেলা পর্যায়ের নেতারা জানাচ্ছেন—

যমুনা সার অন্যসব ইউরিয়ার চেয়ে মানে ভালো

কৃষকের চাহিদাও বেশি

উৎপাদন বন্ধ মানে আমদানির ওপর ১০০% নির্ভরতা, যা বাজারকে অস্থিতিশীল করতে পারে

রাজশাহীর বিএফএ নেতা রবিউল ইসলাম সরদার বলেন,

“আগে আমদানি করা সার নিয়ে মান–সংক্রান্ত সমস্যা ছিল। এই কারখানা বন্ধ থাকলে কৃষকরা আবার ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।”

তীব্র প্রশ্ন—টেকসই গ্যাস সরবরাহ ছাড়াই কেন চালু করা হলো কারখানা?তিতাস গ্যাসের ঘোষণা অনুযায়ী—রমজানে যমুনা সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ সম্ভব নয়।

এতে বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন:

গ্যাস সরবরাহের দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা ছাড়া কেন উৎপাদন শুরু করা হলো?

দ্বিগুণ দামে গ্যাস কিনেও যদি উৎপাদন টেকসই না হয়—এটি কোন নীতির প্রতিফলন?

শিল্প বিশ্লেষকদের মতে,

“এটি শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, বরং জ্বালানি ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা–সংকট ও নীতি অস্থিরতার প্রতিচ্ছবি।”

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত