ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পাইলটের অবহেলায় একের পর এক প্রবাসীর মৃত্যু!

২০২৬ জানুয়ারি ২২ ০১:৩৪:১২

পাইলটের অবহেলায় একের পর এক প্রবাসীর মৃত্যু!

আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে যাত্রী অসুস্থ হলে নিকটবর্তী বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করা বৈশ্বিক এভিয়েশন নিরাপত্তা নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধান। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, এই নিয়ম অমান্য করায় বাংলাদেশি প্রবাসী যাত্রীদের প্রাণহানির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কয়েকটি ফ্লাইটে ঘটেছে একের পর এক মর্মান্তিক মৃত্যু, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে পাইলটদের পেশাদারিত্ব ও কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিয়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ ডিসেম্বর সিলেট থেকে লন্ডনগামী একটি ফ্লাইটে তাজাম্মুল আলী নামে এক যাত্রী হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে নিকটবর্তী লাহোর বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের নির্দেশ দেওয়া হলেও পাইলট সেই নির্দেশ মানেননি। বরং ফ্লাইটটি ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়। এতে অতিরিক্ত কয়েক ঘণ্টা সময় নষ্ট হওয়ায় আকাশেই ওই যাত্রীর মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হলেও কমিটির নেতৃত্বে থাকা কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও অতীতে একই ধরনের অভিযোগ থাকায় বিষয়টি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ২০২৩ সালেও একাধিক ফ্লাইটে গুরুতর অসুস্থ যাত্রী থাকা সত্ত্বেও জরুরি অবতরণ না করে দীর্ঘ সময় আকাশে উড়োজাহাজ চালিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। জেদ্দা-ঢাকা ও সিলেট-লন্ডন রুটে এমন ঘটনায় যাত্রীদের প্রাণহানি ঘটে। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী, ফ্লাইটে থাকা মেডিকেল টিম বা গ্রাউন্ড কন্ট্রোলের পরামর্শ উপেক্ষা করা চরম দায়িত্বহীনতা এবং মানবজীবনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে অপারেশনস ম্যানুয়াল ও নিরাপত্তা প্রটোকল মানা হচ্ছে না। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং নিকটবর্তী নিরাপদ বিমানবন্দরে অবতরণ করাই একমাত্র গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি। তা না হলে প্রবাসী যাত্রীদের জীবন ঝুঁকিতে পড়তেই থাকবে।

এ বিষয়ে কঠোর তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পাইলটদের প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে। নইলে আকাশপথে যাত্রা প্রবাসীদের জন্য নিরাপদ থাকার বদলে আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত