ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

৭ স্ত্রী, ১৩৪ সন্তানের জনক মারা গেলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক পুরুষ,জেনেনিন বয়স

২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ০৮:১৯:২৪

৭ স্ত্রী, ১৩৪ সন্তানের জনক মারা গেলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক পুরুষ,জেনেনিন বয়স

সময়কে যেন নিজের চোখের পলকে ধরে রেখেছিলেন তিনি। উনবিংশ শতকের ধুলোমাখা মরুভূমি থেকে একবিংশ শতকের প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সৌদি আরব—সবকিছুরই নীরব সাক্ষী ছিলেন বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘজীবী মানুষ শেখ নাসের বিন রাদ্দান আল রশিদ আল ওয়াদাই। অবশেষে দীর্ঘ ১৪২ বছরের জীবনের ইতি টেনে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন তিনি।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১১ জানুয়ারি সৌদি আরবের দাহরান আল অঞ্চলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই প্রবীণ ব্যক্তি। যদি বয়স সংক্রান্ত তথ্য সঠিক হয়, তবে তাঁর জন্ম হয়েছিল সৌদি আরব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠারও বহু আগেই, যখন গোটা অঞ্চল ছিল গোত্রভিত্তিক মরুভূমির জনপদ।

জীবনের দীর্ঘ পথে তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অস্থির সময়, দেখেছেন একের পর এক শাসকের উত্থান-পতন, আর অনুভব করেছেন একটি রাষ্ট্রের ধীরে ধীরে আধুনিক রূপে গড়ে ওঠা। সাধারণ বেদুইন জীবন থেকে আধুনিক শহুরে সভ্যতার রূপান্তর ছিল তাঁর চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এক বিস্ময়কর যাত্রা।

ধর্মবিশ্বাস ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম শক্ত ভিত। জানা যায়, জীবদ্দশায় তিনি ৪০ বারেরও বেশি পবিত্র হজ পালন করেছেন। বয়সের ভার কিংবা শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনোই তাঁর ইবাদতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

পারিবারিক দিক থেকেও তাঁর জীবন ছিল বিস্ময়কর। সাতটি বিয়ে করেছিলেন তিনি এবং রেখে গেছেন ১৩৪ জন সন্তান, নাতি-নাতনি ও তাঁদের উত্তরসূরি নিয়ে এক বিশাল বংশধারা। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো—১১০ বছর বয়সে তিনি শেষবারের মতো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং সেই সংসার থেকে তাঁর একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়, যা তখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও আলোড়ন তোলে।

দাহরান আল এলাকায় তাঁর জানাজায় প্রায় সাত হাজার মানুষ অংশ নেন। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সমাজের বিশিষ্টজনেরা এই দীর্ঘজীবী মানুষটিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হন।

এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের ইতিহাস বয়ে নিয়ে যাওয়া এই মানুষটি চলে গেলেও রেখে গেছেন বিস্ময় আর অনুপ্রেরণার এক অনন্য গল্প—যা সময়ের পাতায় বিরল এক অধ্যায় হয়ে থেকে যাবে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত