ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামোর প্রস্তাব চূড়ান্ত

২০২৬ জানুয়ারি ১৭ ১৬:১৬:২৬

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামোর প্রস্তাব চূড়ান্ত

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামোর প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিক বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে বেতন কমিশন। এটি পুরো মাত্রায় কার্যকর হবে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে।

আগামী ২১ জানুয়ারি অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে নতুন বেতনকাঠামো প্রতিবেদন দাখিল করবে বেতন কমিশন। অর্থ উপদেষ্টা পরে তা উপস্থাপন করবেন উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে।

অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বেতন কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় ২২ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন বেতনকাঠামো আংশিক কার্যকর করার অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নিয়ে রেখেছে সরকার।

বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, বেতনকাঠামো পুরো মাত্রায় বাস্তবায়ন করতে গেলে বাড়তি ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা লাগবে।

প্রস্তাবিত বেতনকাঠামোতে নিচের দিকে বেতন–ভাতা বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত বছরের ২৭ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো নির্ধারণের জন্য বেতন কমিশন গঠন করা হয়। এই কমিশনের প্রধান করা হয় সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। ২১ সদস্যের এ কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখন ২০১৫ সালের বেতনকাঠামো অনুসারে বেতন-ভাতা পান। বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ।

বর্তমানে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, এটা দ্বিগুণের বেশি বাড়বে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে বর্তমানে সর্বোচ্চ ধাপে নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা। এটা বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি করা হচ্ছে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮ করার সুপারিশ রয়েছে।দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের। অবশেষে নতুন বেতনকাঠামোর প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে জাতীয় বেতন কমিশন। প্রস্তাব অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে নতুন বেতন কার্যকর হবে এবং ২০২৬–২৭ অর্থবছরের শুরু অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে।

বেতন কমিশন সূত্র জানায়, আগামী ২১ জানুয়ারি অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। এরপর তা উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তুতি হিসেবেই চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ধারণা, পূর্ণাঙ্গভাবে এই বেতন কাঠামো চালু করতে অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে।

প্রস্তাবিত কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি হারে বাড়ানোর সুপারিশ। এতে জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে স্বল্প আয়ের সরকারি কর্মচারীরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২০১৫ সালের পে স্কেল অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন। দেশে মোট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। বিদ্যমান কাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, যা নতুন স্কেলে দ্বিগুণেরও বেশি বাড়তে পারে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ ধাপের বেতন বর্তমানে ৭৮ হাজার টাকা, যা বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকারও বেশি নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামোতে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৭ জুলাই সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের বেতন কমিশন গঠন করা হয়। ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা অনুযায়ী এবার সেই প্রতিবেদন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখন সরকারি চাকরিজীবীরা অপেক্ষা করছেন কবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা আসবে নতুন বেতনকাঠামোর।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত