ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

আজ পবিত্র শবে মেরাজ : ফজিলত, ইতিহাস ও করণীয়

২০২৬ জানুয়ারি ১৬ ০৮:৪৯:২১

আজ পবিত্র শবে মেরাজ : ফজিলত, ইতিহাস ও করণীয়

আজ পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ বা শবে মেরাজ। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য এটি এক মহিমান্বিত ও বরকতময় রাত। এই রাতে মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয় রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে বিশেষ সম্মান দান করেন এবং উম্মতের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেন।

শবে মেরাজ ইসলামের ইতিহাসে এক অলৌকিক ও গৌরবোজ্জ্বল ঘটনা। হিজরি সনের দশম বছরে বা ৬২১ খ্রিষ্টাব্দে এক রাতে রাসূলুল্লাহ (সা.) মক্কার পবিত্র কাবা শরিফ থেকে জেরুজালেমের বায়তুল মুকাদ্দাসে গমন করেন। এই সফরকে বলা হয় ‘ইসরা’। সেখানে তিনি সকল নবী-রাসূলের ইমাম হিসেবে নামাজ আদায় করেন।

এরপর আল্লাহর নির্দেশে তিনি ‘বুরাক’ নামক বিশেষ বাহনে করে সপ্তআকাশ অতিক্রম করে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত পৌঁছান, যা ‘মেরাজ’ নামে পরিচিত। এই সফরে তাঁর সঙ্গী ছিলেন ফেরেশতা হযরত জিবরাইল (আ.)। তিনি জান্নাতের নদী, ফেরেশতাদের ইবাদতগৃহ বায়তুল মা’মুরসহ অসংখ্য নিদর্শন প্রত্যক্ষ করেন এবং মহান আল্লাহ তায়ালার সান্নিধ্য লাভের সৌভাগ্য অর্জন করেন।

এই পবিত্র রাতেই উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার নির্দেশ আসে। তাই শবে মেরাজ শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং এটি ইবাদতের গুরুত্ব ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য স্মারক।

এ রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মসজিদে ও ঘরে ঘরে নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন। শবে মেরাজ আমাদেরকে আত্মশুদ্ধি, ইমান মজবুত করা এবং নিয়মিত নামাজ আদায়ে আরও যত্নবান হওয়ার শিক্ষা দেয়।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত