ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

অসুস্থতা কি আল্লাহর রাগ নাকি বিশেষ রহমত, জানুন সত্য

২০২৬ জানুয়ারি ১৪ ১০:৩৮:২৪

অসুস্থতা কি আল্লাহর রাগ নাকি বিশেষ রহমত, জানুন সত্য

মুমিনের জীবনে রোগব্যাধি ও বিপদ-আপদ শুধু কষ্টের বিষয় নয়; বরং ইসলামি দৃষ্টিতে এটি আল্লাহর বিশেষ পরীক্ষা এবং কখনো কখনো তাঁর ভালোবাসার নিদর্শন। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে অসুস্থতা ও দুঃখ-কষ্টের গভীর তাৎপর্য তুলে ধরা হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, “আমি তোমাদের মন্দ ও ভালো দিয়ে পরীক্ষা করে থাকি এবং আমার কাছেই তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।” (সুরা আম্বিয়া: ৩৫)। এই আয়াতের ব্যাখ্যায় হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, সুস্থতা-অসুস্থতা, সচ্ছলতা-দারিদ্র্য এবং সুখ-দুঃখ—সবকিছুর মাধ্যমেই আল্লাহ বান্দাকে পরীক্ষা করেন।

ইসলামের দৃষ্টিতে রোগব্যাধি মুমিনের জন্য গুনাহ মাফের মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, একজন মুসলমান যে শারীরিক বা মানসিক কষ্টে আক্রান্ত হয়—even তার শরীরে একটি কাঁটা বিঁধলেও—আল্লাহ তাআলা এর বিনিময়ে তার গুনাহ ক্ষমা করে দেন। (সহিহ বুখারি: ৫৬৪১)

অসুস্থতা শুধু গুনাহ মোচনের কারণ নয়, বরং এতে আল্লাহর কাছে বান্দার মর্যাদাও বৃদ্ধি পায়। হাদিসে এসেছে, কখনো কোনো বান্দার জন্য জান্নাতে এমন উচ্চ মর্যাদা নির্ধারিত থাকে, যা সে আমল দিয়ে অর্জন করতে পারে না। তখন আল্লাহ তাকে রোগ বা বিপদের মাধ্যমে পরীক্ষা করেন এবং ধৈর্য ধারণের বিনিময়ে সেই মর্যাদায় পৌঁছে দেন। (সুনানে আবু দাউদ: ৩০৯০)

আরেক হাদিসে বলা হয়েছে, কিয়ামতের দিন সুস্থ ব্যক্তিরা যখন বিপদে ধৈর্য ধারণকারীদের বিপুল প্রতিদান দেখবে, তখন তারা আক্ষেপ করে বলবে—দুনিয়াতে যদি তাদের শরীর কাঁচি দিয়ে কেটে টুকরা করে দেওয়া হতো, তবে আজ তারাও সেই পুরস্কার পেত। (জামে তিরমিজি: ২৪০২)

তবে ইসলাম রোগ হলে চিকিৎসা গ্রহণকেও গুরুত্ব দিয়েছে। নবী করিম (সা.) নিজেও চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন এবং উম্মতকে তা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। তাই অসুস্থ হলে চিকিৎসার পাশাপাশি আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে ধৈর্য ধারণ করাই মুমিনের করণীয়।

বিশেষজ্ঞ আলেমরা বলেন, বিপদে হতাশ না হয়ে, আল্লাহকে দোষারোপ না করে সবর করা এবং তাঁর ফয়সালাকে হাসিমুখে মেনে নেওয়াই প্রকৃত ইমানদারের পরিচয়।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত