ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

নবম পে স্কেল: চূড়ান্ত হচ্ছে পে স্কেল, যে অনুপাতে বাড়ছে বেতন

২০২৬ জানুয়ারি ০৮ ২০:১৪:১৯

নবম পে স্কেল: চূড়ান্ত হচ্ছে পে স্কেল, যে অনুপাতে বাড়ছে বেতন

নবম জাতীয় পে স্কেল চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া এখন শেষ ধাপে। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে পে কমিশনের সর্বশেষ বৈঠকে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে স্কেলে বেতনের অনুপাত ১:৮ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা কার্যত চূড়ান্ত বলেই ধরা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত পে স্কেল সংক্রান্ত পূর্ণ কমিশন সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পে কমিশনের সভাপতি জাকির আহমেদ খান। এ সময় কমিশনের সদস্য ড. মোহাম্মদ আলী খান (এনডিসি), মো. ফজলুল করিম, মো. মোসলেম উদ্দীন, সদস্যসচিব মো. ফরহাদ সিদ্দিকসহ খণ্ডকালীন সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বেতনের অনুপাত কীভাবে নির্ধারিত হলো

সভা সূত্রে জানা গেছে, বেতনের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ স্তরের ব্যবধান নিয়ে তিনটি বিকল্প প্রস্তাব আলোচনা হয়—

১:৮

১:১০

১:১২

দীর্ঘ আলোচনা শেষে ১:৮ অনুপাতকেই বাস্তবসম্মত ও ভারসাম্যপূর্ণ হিসেবে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে উচ্চ ও নিম্ন গ্রেডের মধ্যে বেতন বৈষম্য তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে মনে করছে কমিশন।

সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে তিন প্রস্তাব

তবে সর্বনিম্ন মূল বেতন এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কমিশনের আলোচনায় এ বিষয়ে তিনটি সম্ভাব্য প্রস্তাব উঠে এসেছে—

প্রথম প্রস্তাব: সর্বনিম্ন বেতন ২১ হাজার টাকা

দ্বিতীয় প্রস্তাব: সর্বনিম্ন বেতন ১৭ হাজার টাকা

তৃতীয় প্রস্তাব: সর্বনিম্ন বেতন ১৬ হাজার টাকা

এই তিনটির মধ্য থেকে কোনটি গ্রহণ করা হবে, তা পরবর্তী বৈঠকে চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

১:৮ অনুপাত মানে কী?

পে কমিশনের প্রশ্নমালার ১১ নম্বর প্রশ্নে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল বেতনের অনুপাত কী হওয়া উচিত—সে বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়। ১:৮ অনুপাতের অর্থ হলো, সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতন যদি ১ ধরা হয়, তাহলে সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতন হবে ৮।

সহজভাবে বলা যায়—

যদি সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতন হয় ১০০ টাকা

তাহলে সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতন হবে ৮০০ টাকা

এই অনুপাতের মাধ্যমে বেতন কাঠামোয় একটি ভারসাম্য আনার চেষ্টা করছে কমিশন, যাতে উচ্চপদস্থ ও নিম্নপদস্থ কর্মচারীদের মধ্যে ব্যবধান অস্বাভাবিকভাবে না বাড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ১:৮ অনুপাত কার্যকর হলে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীরা তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পেতে পারেন, যা দীর্ঘদিনের বৈষম্য কমাতে সহায়ক হবে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত