ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দারুন সুখবর : আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ

২০২৫ ডিসেম্বর ২৭ ১৭:৩৫:১৪

দারুন সুখবর : আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ

বিশ্বজুড়ে যখন প্রযুক্তির জয়জয়কার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর প্রভাবে গণছাঁটাইয়ের আতঙ্ক বিরাজ করছে, তখন ভিন্ন এক চিত্র দেখা যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দুই অর্থনৈতিক পরাশক্তি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে। ২০২৫ সালে প্রকাশিত ‘সার্ভিসনাউ’ (ServiceNow) ও ‘পিয়ারসন’ (Pearson)-এর এক বৈশ্বিক যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এই দুই দেশে ১৫ লাখেরও বেশি অতিরিক্ত নতুন কর্মীর প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও সেখানে মানুষের প্রয়োজনীয়তা কমার বদলে আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কেন এই বিপুল কর্মসংস্থান?প্রতিবেদন অনুযায়ী, এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কাজের ধরনে আমূল পরিবর্তন এলেও তা দেশ দুটির সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই বাড়তি উৎপাদনশীলতা নতুন নতুন ব্যবসার পথ প্রশস্ত করছে, যার ফলে দক্ষ জনশক্তির বিশাল চাহিদা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে যারা আধুনিক প্রযুক্তির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারবেন, তাদের জন্য দুয়ার খুলে যাচ্ছে।

সৌদি আরবের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য:সৌদি আরবের ঐতিহাসিক ‘ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়নের ফলে দেশটিতে শ্রমশক্তির চাহিদা ১১ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। দেশটির মেগা প্রজেক্ট যেমন ‘নিওম সিটি’, উন্নত লজিস্টিকস এবং নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগের ফলে সেখানে রেকর্ড সংখ্যক মানবকর্মীর প্রয়োজন হচ্ছে। গবেষণায় এক চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে যে, যদি এআই প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া না হতো, তবে সৌদি আরবকে আরও অতিরিক্ত সাড়ে ৬ লাখ কর্মী খুঁজতে হতো। এমনকি প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের পরও দেশটিতে জনশক্তির বিশাল শূন্যতা থেকেই যাবে।

আরব আমিরাতের দ্রুতগতি:অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজারও অবিশ্বাস্য গতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সেখানে শ্রমশক্তি ১২ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি দ্রুত। আমিরাতে এআই মূলত একঘেয়ে ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজগুলো সহজ করে দিচ্ছে, কিন্তু উচ্চতর ব্যবস্থাপনা, সৃজনশীল সমস্যা সমাধান এবং কারিগরি তদারকির জন্য মানুষের গুরুত্ব বহুগুণ বাড়ছে।

চাহিদার শীর্ষে থাকা খাতসমূহ:গবেষণা অনুযায়ী, নির্মাণ (Construction), পর্যটন (Tourism), স্বাস্থ্যসেবা (Healthcare) ও তথ্যপ্রযুক্তি (Technology) খাতে এই দুই দেশ বড় ধরনের শ্রমঘাটতির মুখে পড়তে যাচ্ছে। এই ঘাটতি পূরণে তারা মূলত দক্ষ বিদেশি কর্মীদের ওপরই নির্ভর করবে।

যারা মধ্যপ্রাচ্যে ক্যারিয়ার গড়ার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য এটি একটি শ্রেষ্ঠ সময়। তবে মনে রাখতে হবে, প্রথাগত অদক্ষ শ্রমিকের বদলে এখন ডিজিটাল সাক্ষরতা ও কারিগরি দক্ষতা সম্পন্ন কর্মীদের কদর বেশি থাকবে। তাই নিজেকে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলাই হবে আগামী দিনের শ্রেষ্ঠ পুঁজি।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত