ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

পে-স্কেল নিয়ে নতুন খবর

২০২৫ ডিসেম্বর ২৬ ১২:১৪:৪৪

পে-স্কেল নিয়ে নতুন খবর

বাংলাদেশের সরকারি চাকুরিজীবীদের বেতন বৈষম্য দূর করতে ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি নতুন বেতন কাঠামো গঠনের দাবি দীর্ঘদিনের। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত জুলাই মাসে একটি পে-কমিশন গঠন করে সাধারণ কর্মচারীদের মনে আশার আলো জাগিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সরকারের অবস্থান পরিবর্তন এবং কমিশনের সুপারিশ দাখিলে বিলম্বের কারণে সেই আশা এখন ক্ষোভে পরিণত হয়েছে।

অনিশ্চয়তার মুখে নবম পে-স্কেল:জুলাই মাসে যখন পে-কমিশন গঠন করা হয়, তখন ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা দেওয়ার একটি বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছিল। অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ শুরুতে এই সরকারের মেয়াদেই নতুন স্কেল বাস্তবায়নের ইঙ্গিত দিলেও গত নভেম্বর মাসে তিনি তার অবস্থান পরিবর্তন করেন। তিনি জানান, নতুন পে-কমিশন বা বেতন বৃদ্ধির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার। অর্থ উপদেষ্টার এই মন্তব্যের পর থেকেই সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়।

আল্টিমেটাম ও নীরবতা:কর্মচারী সংগঠনগুলো গত ৩০ নভেম্বরের মধ্যে কমিশনের সুপারিশ জমা দেওয়ার এবং ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবি জানিয়ে আল্টিমেটাম দিয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।

কাল আসছে নতুন কর্মসূচি:জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রাণপুরুষ ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শোক জানিয়ে গত ২০ ডিসেম্বরের প্রস্তাবিত কর্মসূচি স্থগিত করেছিলেন কর্মচারী নেতারা। তবে এবার তারা রাজপথে নামার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামীকাল শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) নতুন এই আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করা হবে।

আন্দোলনের ধরন কেমন হতে পারে?

কর্মচারী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, নতুন বছরের শুরু থেকেই ধাপে ধাপে কর্মসূচি পালন করা হবে। সম্ভাব্য কর্মসূচির তালিকায় রয়েছে:

দেশব্যাপী প্রতীকী অনশন।বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মহাসমাবেশ।

প্রতিদিন ১ থেকে ২ ঘণ্টার প্রতীকী কর্মবিরতি।

আগামীকাল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই কর্মসূচিগুলোর সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হবে।

শৃঙ্খলার মধ্যে থেকেই আন্দোলন:‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর সভাপতি ওয়ারেছ আলীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট করেছেন যে, তারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে কোনোভাবেই চাকুরির বিধিমালা বা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করবেন না। শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়েই তারা তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের চেষ্টা চালাবেন। তারা মনে করেন, আকাশচুম্বী দ্রব্যমূল্যের বাজারে বর্তমান বেতন দিয়ে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে, তাই পে-স্কেল ঘোষণা এখন সময়ের দাবি।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত