ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বাংলাদেশের যে সিদ্ধান্তের কারণে এবার মাথায় হাত

২০২৫ ডিসেম্বর ২৫ ১৮:০৯:৩৯

বাংলাদেশের যে সিদ্ধান্তের কারণে এবার মাথায় হাত

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ তার পণ্য পরিবহনের রুটে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন এনেছে। এতদিন বাংলাদেশের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের গার্মেন্টস পণ্য ভারতের বিভিন্ন বিমানবন্দর ও নৌবন্দর ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে পৌঁছাত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত হয়ে এই কার্গো পরিবহন বন্ধ করে দিয়েছে ঢাকা। বর্তমানে ভারতের বিকল্প হিসেবে মালদ্বীপকে নতুন ট্রানজিট হাব হিসেবে ব্যবহার করছে বাংলাদেশ, যা ভারতের লজিস্টিক খাতের জন্য এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মালদ্বীপ ট্রানজিট: যেভাবে কাজ করছে নতুন রুটভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'লাইভমিন্ট'-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এখন তাদের তৈরি পোশাক পণ্য প্রথমে জাহাজে করে মালদ্বীপে পাঠাচ্ছে। সেখান থেকে আকাশপথে ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছে যাচ্ছে এইচঅ্যান্ডএম (H&M) এবং জারার (Zara) মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের পোশাকগুলো। মূলত পরিবহনের স্বাধীনতা রক্ষা এবং ভারতের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে আনতেই এই নতুন রুটটি কার্যকর করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিপাকে ভারতের বন্দরগুলো ও বড় রাজস্ব ক্ষতিভারতের অন্যতম বৃহৎ কার্গো পরিবহন সংস্থা ‘এমএসসি এজেন্সি (ইন্ডিয়া)’-এর মহাপরিচালক দীপক তিওয়ারি জানান, আগে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর নির্ভর করে ভারত যে পরিমাণ রাজস্ব পেত, তা এখন বন্ধ হয়ে গেছে। বাংলাদেশের কার্গোগুলো ভিন্ন রুট ব্যবহার করায় ভারতের প্রধান নৌ ও বিমানবন্দরগুলো এখন বড় অংকের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছে।

বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর মেঘের ছায়াভারতীয় কর্মকর্তাদের মতে, বাংলাদেশের এই পরিবর্তনের ফলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক কিছুটা শিথিল হতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পরিকল্পনাধীন বিভিন্ন লজিস্টিক ও অবকাঠামো প্রজেক্টগুলোতে যে সহযোগিতার সুযোগ ছিল, তা এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে। তারা মনে করছেন, এটি কেবল ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্যিক কৌশলের একটি বড় পরিবর্তন যা ভারতের জন্য সুখকর নয়।

সমাধানের পথ খুঁজছে ভারতবাংলাদেশের এই সিদ্ধান্তে ভারত সরকার বর্তমানে বেশ চিন্তিত। সংশ্লিষ্ট এক ভারতীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা এখন একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজছেন যাতে বাংলাদেশ পুনরায় ভারতীয় রুট ব্যবহার করতে আগ্রহী হয়। ভারতের লক্ষ্য হলো, বাংলাদেশের এই বিপুল রপ্তানি বাণিজ্যের একটি অংশ পুনরায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে এনে অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করা।

রপ্তানি রুটে বাংলাদেশের এই নতুন মেরুকরণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। মালদ্বীপকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করার মাধ্যমে বাংলাদেশ কেবল অর্থনৈতিক সুবিধাই পাচ্ছে না, বরং আন্তর্জাতিক সাপ্লাই চেইনে নিজেদের সক্ষমতা ও বিকল্প রুটের গুরুত্বও জানান দিচ্ছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত