ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

ওসমান হাদি হ`ত্যাকাণ্ড; এবার যে বার্তা দিল ভারত

২০২৫ ডিসেম্বর ২৪ ১৬:৪৭:০২

ওসমান হাদি হ`ত্যাকাণ্ড; এবার যে বার্তা দিল ভারত

জুলাই বিপ্লবের অন্যতম লড়াকু সৈনিক এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের রেশ এবার পৌঁছেছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক টেবিলে। এই হত্যার পেছনে ভারতের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বাংলাদেশে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবার নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করেছে ভারত। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ভারতের বার্তাসংস্থা পিটিআই এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

তদন্তের আহ্বান নয়াদিল্লির:

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহর কাছে হাদি হত্যার পুঙ্খানুপুঙ্খ ও বিস্তারিত তদন্তের দাবি জানিয়েছে। ভারতের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে নয়াদিল্লির নাম জড়িয়ে বাংলাদেশে যে ধরনের প্রচারণা চলছে, তার সত্যতা নিশ্চিত করতে একটি স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন। মূলত হাদি হত্যার পর বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান ‘ভারত বিরোধী’ মনোভাব নিয়ে নয়াদিল্লি তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে।

পাল্টাপাল্টি তলব ও উত্তেজনা:

কূটনৈতিক অঙ্গনে গত কয়েক দিন ধরেই ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে ‘পাল্টাপাল্টি তলব’-এর এক নাটকীয় চিত্র দেখা যাচ্ছে। একদিন আগেই ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করেছিল। সেখানে নয়াদিল্লি ও শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানায় ঢাকা। একইসাথে ভারতে থাকা বাংলাদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কড়া বার্তা দেওয়া হয়।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও শেখ হাসিনা ইস্যু:

এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বরও ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করেছিল ঢাকা। সেদিন ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্য নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ সরকার। পাশাপাশি হাদির ওপর হামলাকারী নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা যাতে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে আশ্রয় নিতে না পারে, সে বিষয়েও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল। এর কয়েক দিন পর ১৭ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করা হয় এবং সপ্তাহ না যেতেই গতকাল আবারও তাকে তলব করে ভারত।

বাংলাদেশে ভারত বিরোধী মনোভাবের প্রচার:

পিটিআই-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হাদিকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা গুলি করার পর থেকেই বাংলাদেশে ব্যাপক ভারত বিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। এমনকি উত্তেজিত জনতা ভারতীয় দূতাবাসের দিকে লং মার্চ করারও ঘোষণা দেয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করছে, হাদি হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত হলে এই ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটবে।

সব মিলিয়ে, শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড এখন কেবল একটি অপরাধমূলক ঘটনাই নয়, বরং এটি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের এক বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত