ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

সরাসরি নিয়োগে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ

২০২৫ ডিসেম্বর ২৩ ১৮:১২:৩২

সরাসরি নিয়োগে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ

সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং সংবিধিবদ্ধসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নিয়ে নতুন এক অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ গেজেটটি জারি করা হয়। এর মাধ্যমে ২০২৪ সালের মূল অধ্যাদেশে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন আনা হয়েছে।

সংশোধিত অধ্যাদেশের মূল বৈশিষ্ট্য:নতুন এই গেজেটটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যানসিয়াল করপোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’। এই সংশোধনের মাধ্যমে আগের আইন থেকে ‘আধা-স্বায়ত্তশাসিত’ শব্দটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। মূলত প্রশাসনিক সহজীকরণ ও স্বচ্ছতার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন।

৩২ বছরের বেশি বয়সেও আবেদনের সুযোগ:

গেজেটের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশ হলো নতুন যুক্ত হওয়া ‘ধারা ৩ক’। এতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, এই অধ্যাদেশের সাধারণ নিয়ম (৩২ বছর) যাই থাকুক না কেন, যদি কোনো বিশেষায়িত সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিয়োগ বিধিমালায় কোনো নির্দিষ্ট পদের জন্য বয়সসীমা ৩২ বছরের বেশি (যেমন ৩৫, ৪০ বা ৪৫ বছর) আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে, তবে সেই উচ্চতর বয়সসীমাই বহাল থাকবে।

কেন এই পরিবর্তন?

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি চাকরির সাধারণ স্তরে বয়সসীমা ৩২ বছর করা হলেও কারিগরি, চিকিৎসা এবং বিশেষ কিছু গবেষণা পদে অভিজ্ঞ জনবলের প্রয়োজন হয়। ‘সরকারি অফিসের কম্পিউটার পারসোনেল নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৯’ সহ আরও কিছু বিশেষ বিধিতে আবেদনের বয়সসীমা আগে থেকেই বেশি ছিল। এই নতুন গেজেট প্রকাশের ফলে কারিগরি ও উচ্চতর পদের প্রার্থীরা এখন ৩২ বছর পার করার পরেও আগের বিধি অনুযায়ী আবেদনের সুযোগ ফিরে পেলেন।

এই গেজেট প্রকাশের ফলে সরকারি চাকরির বাজারে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি হলো। সাধারণ পদের জন্য ৩২ বছর কার্যকর থাকলেও বিশেষায়িত ও কারিগরি ক্ষেত্রে উচ্চতর বয়সসীমা বহাল থাকায় দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবল নিয়োগের পথ সুগম থাকবে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত