ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

৭ ঘণ্টায় যত টাকা পেয়েছেন তাসনিম জারা

২০২৫ ডিসেম্বর ২৩ ১৪:০৩:৪৫

৭ ঘণ্টায় যত টাকা পেয়েছেন তাসনিম জারা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নির্বাচনের খরচ মানেই যেখানে কোটি কোটি টাকার খেলা, সেখানে এক ব্যতিক্রমী পথ বেছে নিয়েছেন ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে 'স্বচ্ছ রাজনীতির' স্বপ্ন নিয়ে নির্বাচনি তহবিল সংগ্রহের ডাক দিয়েছিলেন তিনি। আর সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে মাত্র ৭ ঘণ্টায় তার তহবিলে জমা পড়েছে ১২ লাখ টাকারও বেশি অনুদান।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ভোরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে ডা. জারা এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি আপ্লুত হয়ে জানান যে, জনগণের এমন স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন তার ও তার দলের কল্পনার বাইরে ছিল।

অভূতপূর্ব সাড়া ও তহবিলের লক্ষ্যমাত্রা:

ডা. তাসনিম জারা তার পোস্টে উল্লেখ করেন, "মাত্র ৭ ঘণ্টায় আপনারা ১২ লাখ টাকারও বেশি পাঠিয়েছেন। এতটা অভূতপূর্বভাবে আপনারা পাশে দাঁড়াবেন, তা সত্যিই আমাদের কল্পনার বাইরে ছিল। আপনাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।"

তিনি জানান, তার নির্বাচনি প্রচারণার জন্য মোট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার ৫৮০ টাকা। বর্তমান সংগ্রহের ধারা বজায় থাকলে আর মাত্র ৩৪ লাখ টাকা সংগৃহীত হলেই তারা তহবিল সংগ্রহ বা 'ফান্ডরেইজিং' কার্যক্রম বন্ধ করে দেবেন।

বিকাশ লিমিট ও বিকল্প মাধ্যম:জনগণের এই বিপুল সাড়ার কারণে কারিগরি কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও জানিয়েছেন তিনি। ডা. জারা জানান, রাত ২টার পর থেকে লেনদেনের নির্ধারিত সীমা (লিমিট) অতিক্রম করার ফলে অনেক ভোটার চাইলেও বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে পারছেন না। এই সমস্যার কারণে বর্তমানে শুধুমাত্র ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অনুদান গ্রহণ করা হচ্ছে।

এক নতুন ধারার রাজনীতির ইঙ্গিত:

নির্বাচনি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডা. তাসনিম জারার এই উদ্যোগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি মাইলফলক হয়ে থাকতে পারে। বড় বড় ব্যবসায়ী বা মাফিয়া সিন্ডিকেটের বদলে সাধারণ জনগণের ছোট ছোট অনুদানে যদি কোনো প্রার্থী নির্বাচনি ব্যয় মেটাতে পারেন, তবে নির্বাচিত হওয়ার পর তার দায়বদ্ধতা সরাসরি জনগণের কাছেই থাকবে। ডা. জারা এর আগেও ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, তিনি আইনি সীমার বাইরে এক টাকাও বাড়তি খরচ করবেন না এবং প্রতিটি পয়সার হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করবেন।

ঢাকা-৯ আসনের এই লড়াই এখন কেবল ভোট চাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে সততা ও স্বচ্ছতার এক নতুন পরীক্ষা।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত