ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

তাসনিম জারার একাউন্টে বানের পানির মতো ঢুকছে টাকা

২০২৫ ডিসেম্বর ২৩ ০৯:১১:৫৬

তাসনিম জারার একাউন্টে বানের পানির মতো ঢুকছে টাকা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নির্বাচনের নাম শুনলেই যেখানে কোটি কোটি টাকার ছড়াছড়ির চিত্র ভেসে ওঠে, সেখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হাঁটছেন ডা. তাসনিম জারা। ঢাকা-৯ আসনের এই সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব নির্বাচনি খরচ জোগাতে হাত বাড়িয়েছিলেন সাধারণ মানুষের দিকে। আর সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে সাধারণ মানুষ মাত্র ৭ ঘণ্টায় তার তহবিলে জমা দিয়েছেন ১২ লাখ টাকারও বেশি।

স্বচ্ছ রাজনীতির নতুন অধ্যায়:মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে ডা. জারা জানান, গত ৭ ঘণ্টায় তার নির্বাচনি তহবিলে ১২ লাখ ১৯ হাজার টাকার বেশি জমা হয়েছে। এর আগে রাত দেড়টার দিকে তিনি জানিয়েছিলেন, মাত্র ৪ ঘণ্টায় ৫ লাখ ২৬ হাজার টাকা সংগৃহীত হয়েছিল। টাকার অঙ্কের চেয়েও বড় বিস্ময় হলো অনুদানের ধরন। তাসনিম জারা জানান, অধিকাংশ অনুদানই এসেছে ৫, ১০, ২০ কিংবা ৫০ টাকার মতো ক্ষুদ্র অঙ্কে, যা মূলত ছাত্র ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের প্রতিফলন।

কেন এই জনতহবিল?নির্বাচনি প্রচারণার ভিডিও বার্তায় ডা. তাসনিম জারা এক সাহসী সত্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২৫ লাখ বা ভোটার প্রতি ১০ টাকা খরচ করতে পারেন। কিন্তু বাস্তবে শোনা যায় একেকজন প্রার্থী ২০ থেকে ৫০ কোটি টাকা খরচ করেন। সংসদের যাত্রা শুরু হয় মিথ্যা বলা আর আইন ভাঙার মাধ্যমে। যখন একজন প্রার্থী ১০-২০ কোটি টাকা খরচ করেন, নির্বাচিত হওয়ার পর সেই টাকা তুলতে তাকে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি করতে হয়।”

এই চক্র ভাঙতেই তিনি প্রতিজ্ঞা করেছেন যে, আইনের নির্ধারিত সীমার (৪৬ লাখ ৯৩ হাজার ৫৮০ টাকা) বাইরে এক টাকাও বাড়তি খরচ করবেন না এবং প্রতিটি টাকার হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করবেন।

জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও পরবর্তী পদক্ষেপ:মানুষের এমন অভূতপূর্ব সাড়ায় আপ্লুত হয়ে ডা. জারা বলেন, "আপনারা কালো টাকার ঊর্ধ্বে উঠে নতুন ধারার রাজনীতির শক্তির উৎস হতে চেয়েছেন।" তিনি জানান, তার লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৪৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১২ লাখের বেশি সংগৃহীত হয়েছে। লক্ষ্য পূরণ হওয়া মাত্রই তিনি ফান্ডরেইজিং বা অনুদান সংগ্রহ বন্ধ করে দেবেন। বিকাশের লেনদেন সীমা অতিক্রম করায় বর্তমানে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অনুদান গ্রহণ করা হচ্ছে।

ডা. তাসনিম জারার এই উদ্যোগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন বার্তা দিচ্ছে। যদি সাধারণ মানুষ কোনো প্রার্থীর নির্বাচনি খরচের দায়িত্ব নেয়, তবে সেই প্রার্থী জয়ী হয়ে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন, কোনো সিন্ডিকেট বা মাফিয়া গোষ্ঠীর কাছে নয়। ঢাকা-৯ আসনের এই লড়াই এখন কেবল একটি পদের নয়, বরং এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে সততা বনাম কালো টাকার এক অসম লড়াই।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত