ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

তারেক রহমানের কড়া বার্তা: বিএনপির প্রার্থী তালিকা থেকে পড়লেন একাধিক হেভিওয়েট নেতা

২০২৫ ডিসেম্বর ২২ ২২:১৬:২৭

তারেক রহমানের কড়া বার্তা: বিএনপির প্রার্থী তালিকা থেকে পড়লেন একাধিক হেভিওয়েট নেতা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের রণকৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে বিএনপি। সম্প্রতি রাজধানীর গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত তিন দিনের বিশেষ কর্মশালাটি কেবল সাংগঠনিক প্রশিক্ষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং এটি হয়ে উঠেছে প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ের এক অঘোষিত পরীক্ষা। এই কর্মশালায় আমন্ত্রণ পাওয়া এবং না পাওয়ার ওপর ভিত্তি করেই মূলত নির্ধারিত হচ্ছে কার হাতে উঠছে ‘ধানের শীষ’।

মনোনয়ন দৌড়ে কপাল পুড়ল যাদের:দলীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, কর্মশালার আমন্ত্রিত তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অতীতের অনেক হেভিওয়েট ও প্রভাবশালী নেতা এবার কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। ঝালকাঠি-২ আসনে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, চট্টগ্রাম-৬ আসনে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং যশোর-৬ আসনে কাজী রওনকুল ইসলাম এবারের কর্মশালায় ব্রাত্য ছিলেন। ফলে এই আসনগুলোতে বিএনপি নতুন ও বিকল্প প্রার্থী খুঁজছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

আসলাম চৌধুরীর প্রত্যাবর্তন ও নতুন সমীকরণ:সবচেয়ে বড় চমক দেখা গেছে চট্টগ্রাম-৪ আসনে। সেখানে দীর্ঘদিনের মিত্র কাজী সালাউদ্দিনের পরিবর্তে আলোচিত নেতা আসলাম চৌধুরীকে গ্রিন সিগন্যাল দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, জোটের রাজনীতির জটিলতা কাটিয়ে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং লক্ষ্মীপুর-১ আসনে সম্প্রতি বিএনপিতে যোগ দেওয়া শাহাদাত হোসেন সেলিমের অবস্থান প্রায় নিশ্চিত করা হয়েছে।

বাগেরহাট ও লক্ষ্মীপুর: মিত্রদের ছাড় নয়বাগেরহাট ও লক্ষ্মীপুর জেলায় বিএনপি এবার কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়। এই দুই জেলার সবকটি আসনেই দলের নিজস্ব প্রার্থীদের নাম প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে:

বাগেরহাট জেলা: এখানে ৪টি আসনে যথাক্রমে কপিল কৃষ্ণ মন্ডল, ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং সোমনাথ দে-কে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা যাচ্ছে।লক্ষ্মীপুর জেলা: এখানে আবুল খায়ের ভূঁইয়া ও শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির পাশাপাশি শাহাদাত হোসেন সেলিম ও আশরাফ উদ্দিন নিজানকেই দলীয় টিকিট দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।তারেক রহমানের ‘স্মার্ট’ নির্বাচনি ফর্মুলা:

লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্ভাব্য প্রার্থীদের সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সেকেলে পদ্ধতিতে আর ভোট বৈতরণী পার হওয়া যাবে না। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার জন্য তিনি নতুন কিছু কৌশল বাতলে দিয়েছেন:

১. কল্যাণমুখী কার্ডের প্রচার: ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড এবং এগ্রিকালচার কার্ডের মতো জনমুখী পরিকল্পনাগুলো প্রতিটি ভোটারের মাথায় গেঁথে দিতে হবে।

২. ডিজিটাল ক্যাম্পেইন: প্রতিটি আসনে একজন করে দক্ষ ‘সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার’ নিয়োগ এবং কৃষকদের জন্য ডিজিটাল সেবার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

৩. দক্ষ পোলিং এজেন্ট: কেন্দ্র সামলাতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত পোলিং এজেন্টদের তালিকা আগেভাগেই জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অপেক্ষায় বাকি ২৮ আসন:বিএনপি এখন পর্যন্ত ২৭২টি আসনে তাদের সম্ভাব্য কান্ডারিদের নাম স্থির করেছে। অবশিষ্ট ২৮টি আসনের ভাগ্য ঝুলে আছে শরিক দলগুলোর সাথে আলোচনার ওপর। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই কর্মশালার মাধ্যমে বিএনপি মাঠ পর্যায়ে তাদের কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল প্রচারণাকে কয়েক ধাপ এগিয়ে নিল। তারেক রহমানের এই আধুনিক নির্বাচনি দর্শন দলকে সাধারণ ভোটারদের কতটা কাছাকাছি নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত