ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বড় সুখবর : জীবনের প্রথম এমন সুযোগ

২০২৫ ডিসেম্বর ২০ ২৩:৩৬:১৫

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বড় সুখবর : জীবনের প্রথম এমন সুযোগ

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে যুক্ত হতে যাচ্ছে এক নতুন অধ্যায়। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটে প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে বড় এক পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী প্রবাসীদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো শুরু হয়েছে।

১০ দেশের ৪১ হাজার ভোটারের কাছে ব্যালট:

নির্বাচন কমিশনের ওছিভি-এসডিআই (OCV-SDI) প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) এবং আজ শনিবার (২০ ডিসেম্বর) মিলিয়ে বিশ্বের ১০টি দেশের ৪১ হাজার ৫৪৩ জন প্রবাসীকে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার পাঠানো দেশসমূহ: অস্ট্রেলিয়া (৮৯২টি ব্যালট), যুক্তরাজ্য (৫৭৩টি) এবং মালয়েশিয়া (৬,২৪৬টি)।শনিবার পাঠানো দেশসমূহ: যুক্তরাষ্ট্র (৮,৪৮০টি), সৌদি আরব (৭,৩৪৩টি), দক্ষিণ কোরিয়া (৭,৬৮১টি), জাপান (৫,৬০০টি), কাতার (২,৭৩৭টি), কুয়েত (১,৩১০টি) এবং চীন (৬৮১টি)।

কিভাবে ভোট দেবেন প্রবাসীরা?

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভোটাররা তাদের স্মার্টফোনে থাকা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে লগইন করে স্ব-স্ব আসনের প্রার্থীদের তালিকা দেখতে পাবেন। আগামী ২১ জানুয়ারি প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হলে ভোটাররা বিস্তারিত জানতে পারবেন। ব্যালট পেপারে নিজের পছন্দের প্রতীকের পাশের ফাঁকা ঘরে টিক চিহ্ন অথবা ক্রস চিহ্ন দিয়ে ভোট প্রদান করা যাবে।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতীক বরাদ্দের আগেও যদি কেউ ভোট দেন, তবে তা বাতিল হবে না। তবে নিয়ম অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীর নাম ও মার্কা দেখে ভোট দেওয়াই শ্রেয়।

নিবন্ধনের সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়াল:

প্রবাসী বাংলাদেশি এবং দেশে নিজ এলাকার বাইরে অবস্থানরত সরকারি কর্মকর্তাদের সুবিধার্থে নির্বাচন কমিশন এই ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করেছে। তথ্য অনুযায়ী, আজ শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে ৫ লাখ ৪০ হাজার ৬১০ জন ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এই সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে, যা জাতীয় নির্বাচনে প্রবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় ধাপ:

প্রবাসীরা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছিলেন যেন তারা বিদেশ থেকেই ভোট দিতে পারেন। সেই দাবি পূরণ হওয়ায় রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন মনে করছে, পোস্টাল ব্যালটের এই ডিজিটাল পদ্ধতি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোট প্রদানের হার বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত