ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সৌদি শ্রমবাজারে বাড়তি ব্যয়, কম আয়: নতুন ফাঁদে বাংলাদেশি শ্রমিকরা
বিদেশের মাটিতে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে প্রতিবছর লাখ লাখ বাংলাদেশি পাড়ি জমান সৌদি আরবে। কিন্তু বর্তমানে সেই স্বপ্ন বড় এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের ‘পেস্ট কন্ট্রোল’ বা কীটনাশক ছিটানোর কাজে যাওয়া শ্রমিকরা এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। একদিকে আকাশচুম্বী বিদেশযাত্রার খরচ, অন্যদিকে নামমাত্র বেতন—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে প্রবাসীরা মূলত এক ধরনের ‘আধুনিক দাসত্বের’ দিকে ধাবিত হচ্ছেন।
আয়-ব্যয়ের অবিশ্বাস্য বৈষম্য:পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সৌদি আরবে একজন পেস্ট কন্ট্রোল শ্রমিকের মাসিক বেতন নির্ধারিত হয় মাত্র ৭০০ সৌদি রিয়াল, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২ হাজার টাকা। দুই বছরের চুক্তিতে একজন শ্রমিকের মোট আয় হয় প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সেখানে থাকা-খাওয়া ও ব্যক্তিগত খরচ মিটিয়ে দেশে পাঠানোর মতো সঞ্চয় থাকে মাত্র ৩ লাখ টাকার কিছু বেশি।
অথচ এই চাকরি নিয়ে সৌদি আরব যেতে একজন শ্রমিককে রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালালচক্রকে দিতে হয় প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। অর্থাৎ দুই বছর হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে দেশে ফেরার সময় শ্রমিকের হাতে লাভের বদলে প্রায় আড়াই লাখ টাকার ঋণের বোঝা থেকে যায়। এই ঘাটতি মেটাতে অনেক শ্রমিককে চার বছর বা তারও বেশি সময় বিদেশের মাটিতে পড়ে থাকতে হয়, যা কোনোভাবেই লাভজনক অভিবাসন নয়।
আঞ্চলিক বৈষম্য ও তথ্যের অভাব:বাংলাদেশে অভিবাসনের ক্ষেত্রেও দেখা যায় চরম আঞ্চলিক বৈষম্য। কুমিল্লা, নোয়াখালী বা চট্টগ্রামের মতো জেলাগুলো থেকে মানুষ বেশি বিদেশে গেলেও রংপুর বিভাগের জেলাগুলো এই দৌড়ে অনেক পিছিয়ে। এর মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে শক্তিশালী প্রবাসী নেটওয়ার্কের অভাব, দালালচক্রের প্রতারণার ভয় এবং প্রাথমিক বড় অঙ্কের টাকা জোগাড় করার অক্ষমতাকে। সঠিক তথ্যের অভাবে উত্তরবঙ্গের অনেক মানুষ বিদেশের এই বিশাল কর্মসংস্থানের বাজার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
নীতির দুর্বলতা ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য:বিদেশে কর্মী পাঠানোর খরচ কমাতে সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার সুফল মিলছে না। মালয়েশিয়ার মতো লাভজনক বাজারে 'জিটুজি' (সরকার থেকে সরকার) পদ্ধতিতে মাত্র ৩৫ হাজার টাকায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরি হলেও প্রভাবশালী রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর চাপে তা বন্ধ হয়ে যায়। সৌদি আরবের আইনে নিয়োগদাতার সমস্ত খরচ বহন করার কথা থাকলেও বাংলাদেশি শ্রমিকদের ক্ষেত্রে তা মানা হয় না। তদারকির অভাবে দালাল ও এজেন্সিগুলো খেয়ালখুশিমতো ফি আদায় করছে।
সংস্কারের দাবি:৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র সংস্কারের ডাক দিলেও শ্রম অভিবাসন খাতে এখনো মৌলিক কোনো পরিবর্তন আসেনি। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এখনো মধ্যস্বত্বভোগী গোষ্ঠীর প্রভাব প্রকট। শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষা করতে হলে অবিলম্বে বিদেশযাত্রার ব্যয় কমানো, দালালচক্র নির্মূল করা এবং স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা দেশের অর্থনীতি সচল থাকলেও শ্রমিকরা আজীবন শোষণের ফাঁদেই আটকে থাকবেন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- একলাফে কমলো তেলের দাম, ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ ধস
- নবম পে স্কেলে বড় চমক
- ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম প্রধানমন্ত্রীর
- বিশ্বকাপে ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচের ফল জানিয়ে দিল হাঙর রিতিনিয়া
- আকাশচুম্বী সোনার দাম: বাংলাদেশে ভরি প্রতি নতুন রেকর্ড ছাড়ালো
- ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর? ২০ গ্রেডের চাকরিজীবীদের জন্য থাকছে যেসব বড় সুবিধা
- ব্রাজিল বনাম মিশর ম্যাচের সময়সূচি জানুন
- বাংলাদেশ-ভারত মহারণসহ ৩১ মে’র জমজমাট খেলার সূচি, রাতে আইপিএল ফাইনাল
- রিয়াদের অবস্থা খুব খারাপ
- আজ রাতে ব্রাজিল বনাম পানামা ম্যাচ: লাইভ দেখার উপায় ও সময়সূচি
- আর্জেন্টিনা বনাম হন্ডুরাস: জেনেনিন মাচের সময়সূচি
- রাতে মাঠে নামছে ব্রাজিল, পানামা ম্যাচটি যেভাবে দেখবেন লাইভ
- টানা তিন দফা কমল সোনার দাম, ২২ ক্যারেট ভরি নেমে এলো
- বাংলাদেশ বনাম ভারত: ৯০ মিনিটের খেলা শেষ, জানুন ফলাফল
- ব্যাপক চমকে শেষ হলো বাংলাদেশ বনাম ভারত ম্যাচ