ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাংলাদেশে বাড়ছে ভূমিকম্প: ৩টি প্লেট ও ৬টি ভয়ংকর ফল্ট—কোথায় সবচেয়ে বড় ঝুঁকি

২০২৫ নভেম্বর ২৪ ১৪:৪৩:৪৬

বাংলাদেশে বাড়ছে ভূমিকম্প: ৩টি প্লেট ও ৬টি ভয়ংকর ফল্ট—কোথায় সবচেয়ে বড় ঝুঁকি

সাম্প্রতিক সময় ঢাকাসহ আশপাশের অঞ্চলে দু’দিনে চারবার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় জনমনে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নরসিংদীর মাধবদীতে ৫.৭ মাত্রার শক্তিশালী কম্পন এবং ২৪ ঘণ্টা না যেতেই আরেকটি ভূমিকম্প দেশের ভূমিকম্প–ঝুঁকি নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের চারপাশে থাকা তিনটি বড় টেকটোনিক প্লেট এবং দেশের ভেতর ছড়িয়ে থাকা ছয়টি সক্রিয় ফল্টই এই কম্পনের মূল কারণ।

বাংলাদেশ যে ৩টি টেকটোনিক প্লেটের ওপর দাঁড়িয়ে

বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে এমন স্থানে অবস্থিত, যেখানে তিনটি শক্তিশালী প্লেট একে অপরকে ধাক্কা, ঠেলা ও সরানোর কাজ করছে। এগুলো হলো—

ইন্ডিয়ান প্লেটবাংলাদেশের মূল অংশ ইন্ডিয়ান প্লেটের প্রান্তে অবস্থিত। এই প্লেট উত্তরে ইউরেশিয়ান প্লেট এবং পূর্বে বার্মা প্লেটের সঙ্গে চাপ তৈরি করে। এ কারণেই দেশে মধ্যম থেকে বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি সর্বদাই বিদ্যমান।

ইউরেশিয়ান প্লেটউত্তরে হিমালয়ের নিচ দিয়ে এই প্লেট অবস্থান করছে। ইন্ডিয়ান প্লেটের সঙ্গে এর সংঘর্ষে হিমালয় গঠিত হয়েছে এবং একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।

বার্মা প্লেট (বর্মা মাইক্রোপ্লেট)পূর্বদিকে মিয়ানমারের পাশে অবস্থিত এই প্লেটে রয়েছে ভয়ংকর “ইন্দো-বার্মা মেগাথ্রাস্ট”—যা এশিয়ার সবচেয়ে বিপজ্জনক ভূমিকম্প উৎসগুলোর একটি।

⭐ বাংলাদেশকে কাঁপিয়ে তোলা ৬টি সক্রিয় ফল্ট

বাংলাদেশে ছয়টি বড় ফল্ট রয়েছে, যেগুলো প্রতিনিয়ত চাপ জমাচ্ছে, আর সেই চাপই মাঝেমধ্যে ভূমিকম্পের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

১) ডাউকি ফল্ট

সিলেট ও মেঘালয়ের সীমান্তে অবস্থিত এ ফল্ট দেশে সবচেয়ে বিপজ্জনকগুলোর একটি। এখানে ৭–৮ মাত্রার বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে। সিলেট, মৌলভীবাজার, নেত্রকোণা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে।

২) মধুপুর ফল্ট

ঢাকার খুব কাছেই টাঙ্গাইল–ময়মনসিংহ অঞ্চলে অবস্থিত। এই ফল্টে ৬.৫–৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকা ব্যাপকভাবে কেঁপে উঠতে পারে।

৩) চট্টগ্রাম ফোল্ড বেল্ট ফল্টসমূহ

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে অসংখ্য সক্রিয় ফল্ট রয়েছে। এখানে কম্প্রেশন বা চাপের কারণে মাঝারি থেকে বড় কম্পনের সম্ভাবনা প্রায়ই থাকে।

৪) ইন্দো-বার্মা মেগাথ্রাস্ট

পূর্ব সীমান্তে থাকা এই বিশাল সাবডাকশন জোন ৮.৫ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টি করতে পারে। কক্সবাজার, বান্দরবান, চট্টগ্রাম সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে।

৫) শিলং প্লাটো ফল্ট

১৮৯৭ সালের ভূমিকম্প এ অঞ্চল থেকেই হয়েছিল। পুনরায় বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা এলাকায়।

৬) তিস্তা ও প্লায়া-গঙ্গা লাইনামেন্ট

উত্তরাঞ্চলে তুলনামূলকভাবে কম শক্তিশালী ফল্ট হলেও রংপুর–দিনাজপুর অঞ্চলে মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত