ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ৪০টির বেশি আসনে দ্বন্দ্ব, কীভাবে সামলাবে বিএনপি

২০২৫ নভেম্বর ২৩ ১৬:৩০:১৩

বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ৪০টির বেশি আসনে দ্বন্দ্ব, কীভাবে সামলাবে বিএনপি

বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই দলটির ভেতরে অসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৪০টিরও বেশি আসনে মনোনয়ন-সংক্রান্ত বিরোধ প্রকাশ্যে দেখা দিয়েছে। মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের বিক্ষোভ, মিছিল, মানববন্ধন এবং সড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচি বহু এলাকায় নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে মনোনয়ন নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা।

দলীয় সূত্র জানায়, এসব বিরোধের কারণে অনেক এলাকায় বিএনপির তৃণমূল সংগঠন নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। যাঁরা মনোনয়ন পাননি তাঁদের অনেকেই এলাকায় জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী হওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়ানোর আশঙ্কাও সৃষ্টি হয়েছে। এতে দলের ভোটব্যবস্থার ওপর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তৎপর হয়ে উঠেছে। বিএনপির মহাসচিবসহ শীর্ষ নেতারা ধাপে ধাপে মনোনয়নবঞ্চিতদের ঢাকায় ডেকে এনে আলোচনা করছেন। কোথাও কোথাও প্রার্থিতা পুনর্বিবেচনার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। দলীয় নেতৃত্বের লক্ষ্য—বিক্ষুব্ধদের মনোভাব শান্ত করে ঐক্য ফিরিয়ে আনা। তাদের ভাষ্য, বড় রাজনৈতিক দলে মনোনয়ন নিয়ে প্রতিযোগিতা স্বাভাবিক হলেও তা যেন বিদ্রোহে রূপ না নেয়।

দেশের বিভিন্ন জেলায় মনোনয়ন-সংক্রান্ত প্রতিক্রিয়া ভিন্ন ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। কোথাও মিছিল-সমাবেশ, কোথাও মানববন্ধন, আবার কোথাও দেখা গেছে অভিনব প্রতিবাদ—যেমন ফেনীতে ধানখেতে দাঁড়িয়ে ক্রিকেটের ‘রিভিউ’-র ভঙ্গিতে মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবি। কয়েকটি এলাকায় এমনকি কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভও হয়েছে, যা বিষয়টির তীব্রতা স্পষ্ট করে।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর, কুমিল্লা, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, টাঙ্গাইল, কুষ্টিয়া, গাইবান্ধা, নওগাঁসহ বহু জেলায় ঘোষিত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে তীব্র বিভক্তি দেখা গেছে। কয়েকটি জায়গায় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। কিছু আসনে এখনো প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি—এগুলোর পেছনেও চলছে ব্যাপক আলোচনা ও হিসাব–নিকাশ।

বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতার মতে, কিছু আসনে “প্রভাবশালী মহলের পছন্দের প্রার্থী” মনোনীত হওয়ায় তৃণমূলের অসন্তোষ বেড়েছে। এর ফলে দলীয় ঐক্য ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়লে নির্বাচনী মাঠে বিএনপির ভোট নিশ্চিতভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তবে দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মনোনয়ন ঘোষণার পর কিছু জায়গায় ক্ষোভ দেখা দিলেও আলোচনা–সমঝোতার মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে। যেসব আসনে একাধিক যোগ্য প্রার্থী ছিলেন, তাদের মনোভাব বোঝাতে কেন্দ্রীয় নেতারা প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। দলের ভাবমূর্তি সুরক্ষাই এখন বিএনপির মূল লক্ষ্য।

সমগ্র প্রক্রিয়া দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, অভ্যন্তরীণ এই টানাপোড়েন মোকাবিলা করতে না পারলে নির্বাচনী লড়াইয়ে বিএনপি দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই দলটির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—বিক্ষুব্ধ নেতাদের মনোভাব সামাল দিয়ে সংগঠনে স্থিতি ফিরিয়ে আনা।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত