ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

পে স্কেল নিয়ে সর্বশেষ যা জানা গেল

২০২৫ নভেম্বর ২১ ১৪:৪৪:৩৬

পে স্কেল নিয়ে সর্বশেষ যা জানা গেল

সরকারি কর্মচারীদের জন্য বহু প্রতীক্ষিত নতুন পে স্কেল প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় পে কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে সরকারের কাছে পেশ করতে পারে। সূত্র অনুযায়ী, ইতিমধ্যে এই সুপারিশমালা তৈরির প্রায় অর্ধেক (৫০ শতাংশ) খসড়া প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন করেছে কমিশন।

দীর্ঘ বিরতির পর সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা কাঠামো নতুনভাবে পর্যালোচনা ও সুপারিশের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানকে সভাপতি করে ২৩ সদস্যের জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ গঠন করা হয় গত জুলাইয়ের শেষ দিকে। কমিশনের প্রথম সভার তারিখ থেকে ছয় মাসের সময়সীমার মধ্যে প্রতিবেদনটি সরকারের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ ছিল।

প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার পথে এক ধাপ এগোতে চলেছে জাতীয় বেতন কমিশন। জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের কাছ থেকে মতামত নেওয়া হবে। এই লক্ষ্যে আগামী সোমবার (২৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে কমিশনের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপরই রিপোর্ট চূড়ান্তকরণের দিকে অগ্রসর হবে কমিশন।

১৫ পৃষ্ঠার 'জাল' সুপারিশ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান

এদিকে, নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপকভাবে একটি ১৫ পৃষ্ঠার সুপারিশপত্র প্রচারিত হচ্ছে, যা সাধারণ সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বড় ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। কমিশন এটিকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে 'ভুয়া' বলে আখ্যা দিয়েছে।

কমিশনের সদস্য ড. মোহাম্মদ আলী খান একটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে জানান, "যে ১৫ পৃষ্ঠার সুপারিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরছে, সেটি কমিশনের তৈরি নয়। এমন কোনো নথি আমাদের কাছে নেই। এটি ভুয়া এবং বিভ্রান্তিকর।" তিনি আরও জানান, গুরুত্বপূর্ণ স্টেক হোল্ডারদের মতামত নেওয়া এখনও বাকি, এবং আগামী সোমবার কমিশনের সঙ্গে সচিবদের সভা রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে কমিশন প্রতিবেদন তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি জানান।

কমিশন আরও জানায়, ফেসবুকে ব্যাপকভাবে শেয়ার হওয়া ওই নথিতে ২০টি গ্রেড বহাল রাখা, বিভিন্ন গ্রেডের বেতন বৃদ্ধি, ইনক্রিমেন্ট কাঠামো ও ভাতা সংশোধনের যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা কমিশনের অনুমোদিত কোনো নথি নয়। কমিশন জোর দিয়ে বলেছে, বেতনস্কেলের খসড়া সুপারিশ এখনও চূড়ান্ত হয়নি; কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়া বা কোনো নথি প্রকাশ বা ফাঁস হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু প্রচারিত নথিতে কমিশনের নাম-লোগো ব্যবহার করে বেতন বৃদ্ধির বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং সরকারি চাকরিজীবীদের বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো হয়েছে।

বাস্তবায়ন ও কর্মচারী সংগঠনের আলটিমেটাম

পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি জানিয়েছেন, 'আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার এলে এটি বাস্তবায়ন করবেন।'

তবে দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে অনড় রয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। তাদের দাবি, চলতি নভেম্বরেই এই পে স্কেল বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সাথে, নবম পে স্কেলের গেজেট ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশ না করলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এই সংগঠনটি।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত