ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বন্ধুর সঙ্গে স্ত্রীর প্রেম—সব জেনেও স্বামীর সিদ্ধান্তে চমকে গেল সবাই

২০২৫ নভেম্বর ১৪ ১১:০২:১৮

বন্ধুর সঙ্গে স্ত্রীর প্রেম—সব জেনেও স্বামীর সিদ্ধান্তে চমকে গেল সবাই

ভারতের বীরভূমের সাঁইথিয়ায় ঘটেছে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। বন্ধুর সঙ্গে স্ত্রীর পরকীয়ার কথা জানার পরও কোনো ঝগড়া, হুমকি বা মামলা নয়—বরং তিনি নিজেই স্ত্রী আর প্রেমিকের হাতে হাত তুলে দিয়ে বিয়ে সেরে দিলেন।এ দৃশ্য দেখতে স্থানীয়রা ভিড় করেন সতীপীঠ নন্দিকেশ্বরীতলায়।

ঘটনা শুরু পেশার তাগিদ থেকেই

বাপি মণ্ডল পেশায় লরি চালক। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকতে হতো তাকে। সংসারের খরচের টাকা স্ত্রী সঞ্চারীর কাছে পৌঁছে দিতেন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু জিৎ, যিনি নিজেও লরি চালক।সেই সুযোগেই সঞ্চারী ও জিতের মধ্যে তৈরি হয় ঘনিষ্ঠতা, জমে ওঠে প্রেম।

বাপি বিষয়টি টের পেলেও লোকলজ্জা, সংসার আর ৭ বছর বয়সি ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে চুপ করে যান।

স্ত্রীর মামলা, প্রেমিকের যাতায়াত—সব মিলিয়ে সম্পর্কের চরমে ফাটল

সঞ্চারী পরে বাপির বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন এবং চলে যান বাপের বাড়িতে। সেই সময় নিয়মিত সঞ্চারীর কাছে যেতেন জিৎ।ঘটনা আদালতে ঝুলে থাকা অবস্থায় বাপি বিষয়টি নিয়ে সন্দিহান হলেও নিশ্চিত ছিলেন না।

হাতেনাতে ধরা, তারপর সরাসরি মন্দিরে বিয়ে

সোমবার বিষয়টি পরিষ্কার হয়।বাপি সাঁইথিয়ার বাইপাসে স্ত্রী ও বন্ধুকে একই মোটরবাইকে দেখেন। দেরি না করে দুজনকে নিয়ে যান নন্দিকেশ্বরীতলা মন্দিরে।

সেখানে সঞ্চারী স্পষ্ট জানান—“আমি জিতের সঙ্গেই থাকতে চাই।”

এরপর বাপি নিজেই উদ্যোগী হয়ে মন্দিরে লোক জড়ো করে তাদের বিয়ের আয়োজন করেন।

কে কী বললেন?

বাপি মণ্ডল (প্রথম স্বামী):

“আজ থেকে আমি মুক্ত। আমার স্ত্রী এখন বন্ধুর স্ত্রী। ভরণপোষণের দায়িত্বও তারই।সে আমার সঙ্গে সংসার করবে না, উল্টো আত্মহত্যার হুমকি দেয়। তাই এই সিদ্ধান্তই ভালো।”

জিৎ (বন্ধু):

“৮–৯ মাস ধরে আমাদের সম্পর্ক। বিয়ে করব ঠিক করেছিলাম, কিন্তু বন্ধুকে বলতে পারছিলাম না। আজ যা হলো, ভালোই হলো।”

সঞ্চারী (স্ত্রী):

“আজ থেকেই জিতের বাড়িতেই যাব। নতুন জীবন শুরু করব।”

ছেলে কার কাছে?

বাপি জানিয়েছেন, তাদের ৭ বছর বয়সি ছেলেকে তিনি নিজের কাছেই রাখবেন। এ বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই সঞ্চারীর।

সবশেষে বাপির সিদ্ধান্ত সমাজকে ভাবাচ্ছে

স্ত্রীর বিরুদ্ধে চলমান মামলার কথা উল্লেখ করে বাপি বলেন—“আদালতের ছাড়পত্র দিতে পারলাম না। তবে পুলিশকে সাক্ষী রেখে ওকে জিতের হাতে তুলে দিলাম। আশা করি, মামলা তুলে নেবে।”

সমাজে এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত তৈরি হয় উত্তেজনা, ঝগড়া বা রক্তপাত।কিন্তু বাপির শান্ত ও বাস্তবধর্মী সিদ্ধান্ত এখন এলাকাজুড়ে আলোচনার বিষয়।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত