ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ক`ক`টেল  বি`স্ফো`রণ, বাসে আ`গুন

২০২৫ নভেম্বর ১১ ০১:০২:৩০

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ক`ক`টেল  বি`স্ফো`রণ, বাসে আ`গুন

আসন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে সতর্কতা বাড়ানো থাকলেও কলকাতে গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ এবং বাসে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। মেরুলবাড্ডা, আগারগাঁও, মিরপুর, শাহজাদপুর, ধানমণ্ডি ও মোহাম্মদপুরে নাশকতামূলক এই ঘটনার পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস তৎপরতা বাড়িয়েছে; বেশ কিছু বাস জব্দ করা হয়েছে এবং বহু নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে। সরকারী সংস্থাগুলো ১৪২টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি জোরদার করেছে।

বিস্তৃত প্রতিবেদন

আসন্ন ১৩ নভেম্বরের পরিকল্পিত ‘ঢাকা লকডাউন’ ও আজ (১১ নবেম্বর) জামায়াতে ইসলামীসহ আট দলের মহাসমাবেশকে সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্কতায় রয়ে গেছে। সবার নজরদারির মধ্যেও গতকাল (১০ নভেম্বর) রাজধানীর একাধিক এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন লাগার ঘটনা সংঘটিত হয়।

কোথায় কী ঘটেছে — সময়ক্রমভিত্তিক মূল ঘটনা

ভোর ৪:০০ — মিরপুরে গ্রামীণ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের সামনের সড়কে ককটেল বিস্ফোরণ; হতাহত রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। (মিরপুর মডেল থানা ওসি)

ভোর ৫:৪০ — মেরুলবাড্ডার আর্মা মাজেদা মালিক টাওয়ারের সামনে আকাশ পরিবহনের একটি বাসে অগ্নিকাণ্ড; গাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। (ফায়ার সার্ভিস)

সকাল ৭:০০–৮:০০ — আগারগাঁওয়ের বেতার ভবন আশপাশে পর পর দুটি ককটেল বিস্ফোরণ; ধানমণ্ডি, ইবনে সিনা হাসপাতাল ও রাপা প্লাজা মোড়ে ককটেল হামলার তথ্য। (ধানমণ্ডি জোন)

সকাল সোয়া ৭:০০ — মোহাম্মদপুর স্যার সৈয়দ রোডে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ভিতরে ও সড়কে ককটেল বিস্ফোরণ; মোটরসাইকেল আরোহীরা দায়ী। (মোহাম্মদপুর থানা)

সন্ধ্যা ৭:৩০ — ধানমণ্ডি ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে একটি বাসে আগুন লাগার ঘটনা; ফায়ার ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভায়।

সন্ধ্যা ৬:৩০ — মিরপুর-১০ গোলচত্বর, শাহ আলী মার্কেট সামনে এবং খিলগাঁও ফ্লাইওভারের ওপরেও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা।

প্রশাসনের পদক্ষেপ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ৮টি বিভাগে মোট ১৪২টি পয়েন্টে তৎপরতা জোরদার করেছে। (রমনা — ৩৪, মতিঝিল — ১৭, উত্তরায় ১৬ ইত্যাদি)

প্রতিটি প্রধান প্রবেশপথে চেকপোষ্ট ও তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে; হোটেল, মেস ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গোয়েন্দা অভিযান চলছে।

পুলিশ ও ডিবি একযোগে র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।

গত কয়েক দিনে বিভিন্ন অভিযানে হাজারের বেশি নেতাকর্মী গ্রেপ্তার করা হয়েছে; সাম্প্রতিক ২৪ ঘণ্টায় ডিবি অভিযান চালিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন ইউনিট থেকে আরো গ্রেপ্তার হয়েছে। (ডিএমপি সূত্র)

তদন্তের অবস্থা

ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহভাজনদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ মাঠে কাজ করছে। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া সূত্র, মামলার প্রক্রিয়া ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি জানানো হয়েছে।

সরকারি সতর্কতা ও লোকজনকে নির্দেশনা

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ দিয়েছে।

সাধারণ জনগণকে অনুরোধ করা হয়েছে সংরক্ষিত স্থানে যেতে বিরত থাকতে এবং যেকোনো সন্দেহজনক তথ্য/দ্রব্য সম্পর্কে নিকটস্থ পুলিশকে জানাতে।

বিবিধ নথি / উদ্ধৃতি

ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী বলেন, “শহরের প্রতিটি প্রবেশমুখে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। সন্দেহভাজনদের চলাচল নজরদারির আওতায় থাকবে। যেকোনো ধরনের অরাজকতা ঠেকাতে পুলিশ সর্বদা প্রস্তুত।”

ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার জানান, পদক্ষেপ নেওয়া হলে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ঝুঁকি ও পরবর্তী পরিস্থিতি

নির্বাচনী কর্মসূচি ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বেড়েছে; তাই পাহারা ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হচ্ছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত