ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

৬ লাখ টাকা খরচে সৌদি গিয়ে এয়ারপোর্টে একা! নেই কোম্পানি, কেউ নিতেও আসেনি, কী ঘটেছিল

২০২৫ নভেম্বর ০৩ ০০:১৩:১১

৬ লাখ টাকা খরচে সৌদি গিয়ে এয়ারপোর্টে একা! নেই কোম্পানি, কেউ নিতেও আসেনি, কী ঘটেছিল

বিদেশে কাজের স্বপ্ন পূরণ করতে নিজের সব সঞ্চয় খরচ করে অনেকে রওনা দেন প্রবাসে। কিন্তু সেই স্বপ্ন কখনও কখনও দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়, যদি যাচাই-বাছাই না করে ভুল কোম্পানির মাধ্যমে যাওয়া হয়। তেমনি এক ভয়াবহ ঘটনার শিকার হয়েছেন এক বাংলাদেশি যুবক — যিনি ৬ লাখ টাকা খরচ করে সৌদি আরবে গেছেন, কিন্তু বিমানবন্দরে পৌঁছে জানতে পারেন, তাকে নিতে কেউ আসেনি। আরও ভয়ংকর বিষয় হলো, যে কোম্পানির নামে তিনি গিয়েছিলেন, সৌদি আরবে তার কোনো অস্তিত্বই নেই।

এই ঘটনার পর সেই প্রবাসী এখন নিঃস্ব ও হতাশ। তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, এ টাকা ছিল দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত সঞ্চয় এবং ধার করা অর্থ। প্রবাসে নতুন জীবন শুরুর স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও, বাস্তবে অপেক্ষা করছিল প্রতারণা ও অসহায়ত্ব।

প্রতারণার নতুন কৌশল

সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিয়ে এমন প্রতারণার ঘটনা বেড়েছে। অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো জাল ভিসা, ভুয়া কোম্পানির নাম এবং ফেক চুক্তিপত্র দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলছে। প্রাথমিকভাবে “চাকরির নিশ্চয়তা” দিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা।

সরকারের পরামর্শ

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) জানিয়েছে — বিদেশে যেতে হলে শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে চুক্তি যাচাই করে যেতে হবে।ভিসা, কোম্পানির নাম, ওয়ার্ক পারমিট নম্বর এবং স্থানীয় স্পন্সরের তথ্য অনলাইনে যাচাই করার পরেই টাকা পরিশোধ করা নিরাপদ।

প্রবাসীদের প্রতি সতর্কবার্তা

একজন সাধারণ মানুষের জন্য ৬ লাখ টাকা মানে পুরো জীবনের সঞ্চয়। তাই বিদেশে যাওয়ার আগে সব কাগজপত্র, চুক্তিপত্র ও কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন তথ্য যাচাই না করলে এমন ভয়াবহ বিপদের শিকার হতে পারেন যেকোনো সময়।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত