ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

নতুন পে স্কেলে বেতন বাড়বে কত, কমিশনের প্রস্তাবে মিলছে চমকপ্রদ ইঙ্গিত

২০২৫ নভেম্বর ০১ ১২:০২:১২

নতুন পে স্কেলে বেতন বাড়বে কত, কমিশনের প্রস্তাবে মিলছে চমকপ্রদ ইঙ্গিত

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে যাচ্ছে নবম পে কমিশন। প্রায় এক দশক পর গঠিত এই কমিশনের সুপারিশ ঘিরে এখন চরম আগ্রহে দিন গুনছেন দেশের সরকারি চাকরিজীবীরা। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন সংগঠন, সমিতি ও অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় পর্ব শেষ করেছে কমিশন। ৩০ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়েছে এই মতবিনিময় কার্যক্রম।

পে কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর পাশাপাশি প্রায় তিন শতাধিক সংগঠন থেকে প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রস্তাবের ধরন ভিন্ন হলেও বেতন বাড়ানো এবং গ্রেড সংখ্যা কমানোর বিষয়ে প্রায় সবাই একমত। ফলে এই দুটি দিকই চূড়ান্ত প্রতিবেদনে নিশ্চিতভাবে স্থান পেতে চলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নানা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কমিশনের প্রাথমিক প্রস্তাবে মূল বেতন প্রায় দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়ানোর ইঙ্গিত রয়েছে। এই খবরে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি কিছুটা শঙ্কাও দেখা দিয়েছে—কারণ স্বাধীনতার পর গঠিত আটটি পে কমিশনের প্রতিটিতেই বেতন বেড়েছে ৫০ শতাংশের বেশি, তবে নিম্নগ্রেডের কর্মচারীরা পেয়েছেন তুলনামূলক বেশি সুবিধা।

মতবিনিময় পর্ব শেষ হলেও এখন চলছে মতামত যাচাই-বাছাই। কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাকসুদুর রহমান সরকার জানিয়েছেন, ১৫ অক্টোবর অনলাইন মতামত গ্রহণ শেষ হওয়ার পর থেকেই সংগঠনগুলোর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু হয়, যা ৩০ অক্টোবর শেষ হয়েছে। এখন তারা বসে চূড়ান্ত সুপারিশ প্রণয়নের কাজে হাত দিচ্ছেন।

সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলো আশা করছে, ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই চূড়ান্ত সুপারিশ জমা হবে এবং জানুয়ারির শুরুতেই নতুন পে স্কেল কার্যকর করা সম্ভব হবে। মাকসুদুর রহমানও আশাবাদী, “কমিশনের মেয়াদ সর্বোচ্চ ছয় মাস, তাই আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যেই সুপারিশ জমা দিতে চাই,” বলেন তিনি।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কমিশনের কাজ ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ শেষ হতে পারে। এরপর সরকার ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করতে পারে। ইতোমধ্যে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সঙ্গে বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, এই নতুন বেতন কাঠামো বর্তমান সরকারের মেয়াদেই বাস্তবায়ন করা হবে, পরবর্তী সরকারের জন্য অপেক্ষা করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, নতুন পে স্কেলের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হবে চলতি (২০২৫–২৬) অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে, যাতে মার্চ বা এপ্রিলে কার্যকর করা সম্ভব হয়। ডিসেম্বর থেকেই বাজেট সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হবে, সেখানে নতুন পে স্কেলের বিষয়টি যুক্ত করা হবে।

সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জন্য ন্যায়সঙ্গত ও আধুনিক বেতন কাঠামো প্রণয়নই পে কমিশনের মূল লক্ষ্য। ইতোমধ্যে অনলাইন প্রশ্নমালা, সমিতির প্রস্তাব ও মাঠপর্যায়ের মতামত বিশ্লেষণ চলছে। কমিশন আশা করছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাদের প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে সরকারকে জমা দেওয়া সম্ভব হবে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত