ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে সেন্টমার্টিন— নতুন নিয়ম ভাঙলেই কড়া ব্যবস্থা

মো : মারুফ হোসেন
মো : মারুফ হোসেন

সিনিয়র রিপোর্টার

২০২৫ অক্টোবর ৩১ ১৭:১৭:২১

পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে সেন্টমার্টিন— নতুন নিয়ম ভাঙলেই কড়া ব্যবস্থা

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন অবশেষে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে। আগামীকাল শনিবার (১ নভেম্বর) থেকে দ্বীপে ভ্রমণের অনুমতি মিলবে। তবে এবার পরিবেশ সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার ১২টি কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে, যা পর্যটকদের অবশ্যই মানতে হবে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন জানায়, গত ৯ মাস বন্ধ থাকার পর সেন্টমার্টিন দ্বীপের প্রকৃতিতে নতুন প্রাণ ফিরেছে। সৈকতে দেখা মিলছে লাল কাঁকড়ার ঝাঁক, শামুক-ঝিনুকের বৃদ্ধি, এমনকি মা কাছিমও ফিরে এসেছে ডিম পাড়তে। তাই এবার দ্বীপের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় কোনো ধরনের অবহেলা বরদাশত করা হবে না।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিদুল আলম বলেন, “যারা নির্দেশনা মানবে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে এবার টেকনাফ নয়, বরং কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করবে।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উপ-পরিচালক মহিবুল ইসলাম জানান, প্রতিটি পর্যটককে অনলাইনে ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েবসাইট থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড থাকবে—যা না থাকলে তা নকল হিসেবে গণ্য হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, অবৈধ স্থাপনা, অপরিকল্পিত পর্যটন ও পলিথিন দূষণের কারণে দ্বীপটি মারাত্মক সংকটে পড়েছিল। তবে পর্যটন নিয়ন্ত্রণের এই নতুন উদ্যোগ সেন্টমার্টিনকে টেকসই পর্যটনের এক অনন্য উদাহরণে পরিণত করতে পারে।

পরিবেশ সংগঠন ইয়েস কক্সবাজারের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক বলেন, “সীমিত পর্যটনই সেন্টমার্টিনকে বাঁচাতে পারে। এবার সরকারের এই পদক্ষেপ সময়োপযোগী।”

ক্রমনির্দেশনা
নভেম্বর মাসে শুধুমাত্র দিনের বেলা ভ্রমণ অনুমোদিত।
ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকবে।
ফেব্রুয়ারি মাসে পর্যটক প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২,০০০ পর্যটক প্রবেশ করতে পারবেন।
রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি বা বারবিকিউ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
কেয়াবনে প্রবেশ ও কেয়া ফল সংগ্রহ/বিক্রয় নিষিদ্ধ।
কাছিম, শামুক, ঝিনুক, প্রবালসহ যেকোনো জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না।
মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ মোটরচালিত যান চলাচল নিষিদ্ধ।
নিষিদ্ধ পলিথিন বহন নিষিদ্ধ।
১০ একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।
১১ ব্যক্তিগত পানির ফ্লাস্ক ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
১২ সব ভ্রমণকারীর জন্য অনলাইন ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড বাধ্যতামূলক।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত