ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ কর্মী নেয়ার ঘোষণা দিলো যে দেশ

২০২৫ অক্টোবর ২৭ ১৮:৩৮:৩৫

বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ কর্মী নেয়ার ঘোষণা দিলো যে দেশ

বাংলাদেশ থেকে জাপানে এক লাখেরও বেশি দক্ষ কর্মী পাঠানোর উদ্যোগে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা দিয়েছে। রোববার (২৬ অক্টোবর) জাপানের ন্যাশনাল বিজনেস সাপোর্ট কম্বাইন্ড কো-অপারেটিভস (এনবিসিসি)-এর ২৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ। উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, এনবিসিসি হলো ৬৫টিরও বেশি জাপানি কোম্পানির একটি ব্যবসায়িক ফেডারেশন। সম্প্রতি তারা বাংলাদেশের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (MoI) স্বাক্ষর করেছে, যার লক্ষ্য হলো জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রশিক্ষণ, সার্টিফিকেশন এবং কর্মসংস্থানের একটি কাঠামো তৈরি করা।

প্রকল্পের আওতায় আগামী ৫ বছরে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ট্রেনিং প্রোগ্রাম (TITP) এবং স্পেসিফাইড স্কিলড ওয়ার্কার্স (SSW) প্রকল্পের মাধ্যমে এক লাখেরও বেশি দক্ষ কর্মী জাপানে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে আগামী বছর দুই হাজার কর্মী, ২০২৭ সালে ছয় হাজার এবং ২০২৮ সালে ১৮ হাজার কর্মী নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকবে নির্মাণ, সেবা, এভিয়েশন, গার্মেন্টস ও কৃষি খাতে। এছাড়া ভবিষ্যতে গাড়ি চালক, অটোমোবাইল ও রিসাইক্লিং খাতে দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন আরও বাড়বে। বাংলাদেশে খুলনা ও গাজীপুরের কাপাসিয়ায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে, যেখানে সম্ভাব্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এনবিসিসি প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যেই এই কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেছেন।

প্রতিনিধিদলের প্রধান মিকিও কেসাগায়ামা বলেন, “মাত্র সাত মাসে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় অনেক অগ্রগতি হয়েছে। আশা করছি, আগামী বছর দুই হাজার কর্মী পাঠানো সম্ভব হবে। তবে ভাষাগত দক্ষতা আরও বাড়ানো জরুরি।” প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ভাষাগত দক্ষতা অর্জন বড় চ্যালেঞ্জ, যা ভার্চুয়াল ক্লাস বা জাপানি প্রশিক্ষক আনার মাধ্যমে উন্নত করা যেতে পারে।

তিনি আরও যোগ করেন, “বাংলাদেশি নারীরা কেয়ারগিভিং সেক্টরে অনন্য। সঠিক প্রশিক্ষণ ও ভাষাগত দক্ষতা পেলে তারা জাপানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। একবার যাওয়া শুরু হলে আরও কর্মী উৎসাহিত হবেন।” এনবিসিসি প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক বছরে জাপানে ৪ লাখের বেশি নার্সের চাহিদা তৈরি হবে এবং তারা বাংলাদেশ থেকে আরও নার্স নিয়োগের পরিকল্পনা করছেন।

উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, জাপানে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া সরকার নিয়মিত পর্যালোচনা করছে। সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য বিশেষ সেলও গঠন করা হয়েছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত