ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

বরইপাতা দিয়ে মৃতকে গোসল করানো হয় কেন ,জানুন হাদিস ও বিজ্ঞান অনুযায়ী ব্যাখ্যা

২০২৫ অক্টোবর ২০ ২০:৩৮:০৬

বরইপাতা দিয়ে মৃতকে গোসল করানো হয় কেন ,জানুন হাদিস ও বিজ্ঞান অনুযায়ী ব্যাখ্যা

মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়া ইসলামী শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান। একে বলা হয় ফরজে কেফায়া, অর্থাৎ কোনো মুসলিম মারা গেলে গোসল, জানাজা ও দাফনের দায়িত্ব সমাজের মুসলমানদের ওপর অর্পিত থাকে। এই গোসলের ক্ষেত্রে বরইপাতা (কুলপাতা) ব্যবহার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে, যা প্রিয় নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাতের অনুসরণ।

হাদিসের আলোকে বরইপাতা ব্যবহারের গুরুত্ব

এক হাদিসে এসেছে,"হজের সময় আরাফাতে অবস্থানের সময় এক ব্যক্তি উট থেকে পড়ে মৃত্যুবরণ করেন। তখন রাসুল (সা.) বলেন, তাকে বরইপাতা মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল করাও এবং তাকে দুটি কাপড়ে কাফন দাও। সুগন্ধি ব্যবহার করো না, মাথাও ঢেকো না, কারণ সে কিয়ামতের দিন তালবিয়া পাঠ করতে করতে উঠবে।"— (সহিহ বুখারি)

এই হাদিসের মাধ্যমে স্পষ্ট বোঝা যায়, বরইপাতা ব্যবহার করা নবিজির সুন্নাত।

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি

আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, বরইপাতায় রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক উপাদান। এটি পানিতে সেদ্ধ করলে বা ভিজিয়ে রাখলে একধরনের জীবাণুনাশক নির্যাস বের হয়, যা লাশকে জীবাণুমুক্ত ও পচনমুক্ত রাখতে সাহায্য করে।

এ কারণে, বরইপাতা দিয়ে মৃতদেহ গোসল করালে শরীর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন থাকে এবং সহজে পচন ধরে না। এটি নবিজির সুন্নাত হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যগতভাবেও অত্যন্ত কার্যকর।

ইসলামী বিধান ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের যুগপৎ সমন্বয়

মৃতদেহকে বরইপাতা মিশ্রিত হালকা গরম পানিতে গোসল করানো শুধুমাত্র ধর্মীয় রীতি নয়, এটি একটি ব্যবহারিক ও চিকিৎসাগত দিক থেকেও প্রমাণিত উপকারি পদ্ধতি।

যদি বরইপাতা পাওয়া না যায়, তবে বিকল্প হিসেবে সাবান বা জীবাণুনাশক উপাদান ব্যবহার করাও জায়েজ রয়েছে।একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের উচিত, মৃত ব্যক্তিকে যথাযথ মর্যাদায় বিদায় দেওয়া। বরইপাতা দিয়ে গোসল করানো একটি সুন্নাত ও স্বাস্থ্যসম্মত কাজ—যা মৃতের প্রতি সম্মান, ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আমাদের ঈমানের বহিঃপ্রকাশ।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত