ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

গ্রেপ্তারকৃত সেই আলোচিত প‘র্ন তারকা দম্পতির জাতীয় পরিচয়পত্রে চমকপ্রদ তথ্য

২০২৫ অক্টোবর ২০ ১৯:০৬:৩৬

গ্রেপ্তারকৃত সেই আলোচিত প‘র্ন তারকা দম্পতির জাতীয় পরিচয়পত্রে চমকপ্রদ তথ্য

বাংলাদেশে বসে আন্তর্জাতিক পর্নোগ্রাফি সাইট পরিচালনার অভিযোগে আলোচিত এক যুগলকে অবশেষে বান্দরবান জেলা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

আজ সোমবার (২০ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান। তিনি বলেন,

“গ্রেপ্তারকৃত দম্পতি বিদেশভিত্তিক একটি ওয়েবসাইটে নিয়মিত অশ্লীল ভিডিও তৈরি ও আপলোড করতেন। তাদের পরিচালিত ওয়েবসাইটটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্ন সাইটগুলোর তালিকায় উঠে এসেছে।”

গ্রেপ্তারের পেছনের গল্প

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, এই দম্পতি বাংলাদেশেই থেকে ভিডিও ধারণ, সম্পাদনা ও আপলোড করতেন। এসব কনটেন্টের মাধ্যমে তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করছিলেন।

বাংলাদেশের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২ অনুযায়ী—অশ্লীল ভিডিও উৎপাদন, সংরক্ষণ ও প্রচার করা একটি গুরুতর অপরাধ। এই যুগল শুধু নিজেরাই অপরাধ করেননি, বরং অনেকে যাতে এই পথে যুক্ত হয়, সেই দিকেও উৎসাহ দিচ্ছিলেন।

সিআইডির কর্মকর্তারা জানান, তাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে।

এনআইডিতে চমকপ্রদ তথ্য উদ্ঘাটন

সিআইডির হাতে পাওয়া জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত নারীর স্থায়ী ঠিকানা মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলা। তবে তদন্তে জানা যায়, পরিচয়পত্রে উল্লেখিত ঠিকানাটি আসলে তার প্রথম স্বামীর বাড়ি, যিনি পেশায় একজন জেলে।

সেই বাড়িতে গিয়ে সাংবাদিকরা জানতে পারেন, প্রায় আট বছর আগে ওই নারী বাড়ি ছেড়ে চলে যান এবং আর ফিরে আসেননি।নারীর শ্বশুর বলেন,

“একদিন সে হঠাৎ চলে যায়, এরপর থেকে আর কোনো যোগাযোগ নেই। আমরা শুধু শুনেছি সে এখন অন্য পথে চলে গেছে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই নারীর বাবার বাড়ি একই উপজেলার আরেকটি গ্রামে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ

সম্প্রতি দ্য ডিসেন্ট নামে একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এই দম্পতিকে নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, ২৮ বছর বয়সী ওই নারী নিজেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বাংলাদেশের এক নম্বর মডেল’ হিসেবে পরিচয় দেন।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি ভাইরাল হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। অবশেষে সিআইডির বিশেষ টিম তাদের বান্দরবান থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত