ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিক্ষোভের মুখে সোশ্যাল মিডিয়া খুলে দিল সরকার

২০২৫ সেপ্টেম্বর ০৯ ১১:১০:২২

বিক্ষোভের মুখে সোশ্যাল মিডিয়া খুলে দিল সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক : তরুণ প্রজন্মের টানা বিক্ষোভ, সংঘর্ষে রক্ত ঝরা এবং তীব্র আন্তর্জাতিক চাপের মুখে অবশেষে নেপাল সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে। প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়।

যোগাযোগ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী পৃথ্বী সুব্বা গুরুং এক ঘোষণায় জানান, ফেসবুক, এক্স, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবসহ মোট ২৬টি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। তিনি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, "সরকার আপনাদের দাবি মেনে নিয়েছে। এখন দয়া করে শান্ত হন এবং বাড়ি ফিরে যান।"

তবে এর মধ্যেই কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন। শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ ধীরে ধীরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কারফিউ অমান্য করে নেমে আসা হাজারো মানুষ পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান।

সরকার জানিয়েছে, সোমবারের সহিংসতা তদন্তে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে নেপালে নিবন্ধিত হতে বলা হয়েছিল। গত ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল সরকার। কিন্তু ফেসবুক, এক্সসহ জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো নিবন্ধন না করায় ৪ সেপ্টেম্বর থেকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়।

এই সিদ্ধান্তেই উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো দেশ। বিশেষ করে জেন জি প্রজন্ম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে রাজপথে নামে। বিক্ষোভকারীদের চাপের মুখে নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী অলির পদত্যাগের দাবিও জোরালো হতে থাকে।

প্রধানমন্ত্রী অলি সোমবারের ব্রিফিংয়ে জানান, "আমরা এক বছর ছয় মাস ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেছি। আমরা শুধু চাইছিলাম তারা নেপালের আইনকে সম্মান করুক। কিন্তু এক্স জানিয়ে দিয়েছে, তারা নেপালে নিবন্ধিত হবে না।"

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত