ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

জাতিসংঘে বড় কূটনৈতিক লড়াই: একই দিনে ভাষণ দেবেন ইউনূস, মোদি ও শেহবাজ

মুস্তাকিম
মুস্তাকিম

জুনিয়র রিপোর্টার

২০২৫ আগস্ট ২৫ ১২:২৬:২৪

জাতিসংঘে বড় কূটনৈতিক লড়াই: একই দিনে ভাষণ দেবেন ইউনূস, মোদি ও শেহবাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮০তম অধিবেশনে এক ঐতিহাসিক দিন অপেক্ষা করছে। একই দিনে বক্তব্য রাখতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

জাতিসংঘের প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অধিবেশন চলাকালে তাদের এই ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। সকালে বক্তব্য রাখবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, আর বিকেলে মঞ্চে উঠবেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি বক্তব্য

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, একই দিনে বক্তব্য রাখা ভারত ও পাকিস্তানের জন্য কৌশলগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে। দিল্লি সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার ইস্যুতে জোর দেবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে, অন্যদিকে ইসলামাবাদ সরাসরি কাশ্মির প্রশ্ন এবং আঞ্চলিক শান্তির বিষয়টিকে তুলে ধরতে প্রস্তুত। শেহবাজের বক্তব্য থাকবে মোদির পরই, ফলে ইসলামাবাদের হাতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগ তৈরি হবে।

একজন জ্যেষ্ঠ পাকিস্তানি কূটনীতিক বলেছেন, “কাশ্মির সমস্যার ন্যায়সঙ্গত সমাধান ছাড়া জাতিসংঘের শান্তি, উন্নয়ন ও মানবাধিকারের প্রতিশ্রুতি আমাদের অঞ্চলে কখনো পূর্ণ হবে না।”

ইউনূসের ভূমিকা

বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই প্রথম জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেবেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও মানবাধিকার প্রশ্নকে গুরুত্ব দেবেন।

কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপট

মাত্র কয়েক মাস আগে ভারত-পাকিস্তানের চার দিনের উত্তেজনা দক্ষিণ এশিয়াকে পারমাণবিক সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল। এর পর এমন দিনে একই মঞ্চে দুই প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

জাতিসংঘ অধিবেশন ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট

অধিবেশন শুরু: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সাধারণ বিতর্ক চলবে: ২৩–২৯ সেপ্টেম্বর

মূল প্রতিপাদ্য: “একসাথে ভালো: শান্তি, উন্নয়ন ও মানবাধিকারের পথে ৮০ বছর ও আরও বেশি”

প্রথম দিন বক্তব্য রাখবে ব্রাজিল, এরপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ভাষণ দেবেন।

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সংকট

এ বছর অধিবেশনে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ, ইউক্রেন সংকট এবং দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক সংঘাত আলোচনায় প্রাধান্য পাবে। বিশেষ করে পাকিস্তান বার্তা দিতে চাইবে যে, কাশ্মির প্রশ্ন উপেক্ষা করে দক্ষিণ এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়।

জাতিসংঘের ৮০তম অধিবেশন এশিয়া এবং বৈশ্বিক কূটনীতির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠছে। একই দিনে ড. ইউনূস, মোদি ও শেহবাজের বক্তব্য শুধু দক্ষিণ এশিয়ার নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতির দৃষ্টি আকর্ষণ করবে নিঃসন্দেহে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত