ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ভিসা নিয়ে এইমাত্র পাওয়া গেলো অনেক বড় সুখবর

মো : খুরশেদ আলম
মো : খুরশেদ আলম

সিনিয়র রিপোর্টার

২০২৫ আগস্ট ১৬ ১৮:৪৪:৩৩

ভিসা নিয়ে এইমাত্র পাওয়া গেলো অনেক বড় সুখবর

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুয়েত কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ভিসা নীতিতে বড় ধরনের সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছে। নতুন এই নীতির আওতায় বিশ্বের প্রায় সব দেশের নাগরিকদের কুয়েতে প্রবেশ সহজ হবে। তবে ব্যতিক্রম শুধু ইসরায়েলের নাগরিকরা—গাজায় হামলা ও দখলদারিত্বের কারণে তাদের জন্য কোনো প্রবেশাধিকার থাকবে না।

রাজধানী কুয়েতে অনুষ্ঠিত এক উপস্থাপনায় জেনারেল ডিপার্টমেন্ট অব রেসিডেন্সির কর্নেল আব্দুল আজিজ আল কান্দারি নতুন ভিসা ব্যবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, সংশোধিত এই কর্মসূচি ‘কুয়েত ভিসা প্ল্যাটফর্ম’-এর মাধ্যমে অনলাইনে পরিচালিত হবে এবং আবেদন প্রক্রিয়া আগের তুলনায় অনেক সহজ হবে। আবেদনকারীর জাতীয়তা, পেশা এবং আর্থিক সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করেই ভিসার ধরন নির্ধারিত হবে।

নতুন ভিসার চার ধরন

১. সীমাবদ্ধ প্রবেশাধিকার: যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন/শেনজেন, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকরা সহজেই ভিসা পাবেন। তাদের জন্য পাসপোর্টের ৬ মাসের বৈধতা ছাড়া অতিরিক্ত শর্ত নেই।

২. জিসিসি বাসিন্দা ও পেশাদাররা: উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত দেশগুলোর বাসিন্দা এবং আর্থিকভাবে সক্ষম পেশাজীবীরা বৈধ বসবাসের প্রমাণ দেখালে ভিসা পেতে পারবেন।

৩. আর্থিক সচ্ছলতা রুট: অন্যান্য দেশের নাগরিকরা ব্যাংক স্টেটমেন্ট, হোটেল বুকিং এবং নিরাপত্তা জমার ভিত্তিতে আবেদন করতে পারবেন। তবে এই ব্যবস্থা এখনও কার্যকর হয়নি, বাস্তবায়ন মুলতুবি রয়েছে।

৪. ইভেন্ট-নির্দিষ্ট ভিসা: আন্তর্জাতিক সম্মেলন বা স্থানীয় ইভেন্টে অংশগ্রহণকারীরা কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে ভিসা পাবেন।

ভিসার মেয়াদ ও শর্তাবলী

পর্যটন ভিসা: একক বা একাধিক প্রবেশের জন্য ১ মাস থেকে সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত বৈধ। প্রতিবার প্রবেশে সর্বোচ্চ ৩০ দিন থাকার অনুমতি।

ব্যবসায়িক ভিসা: একক প্রবেশে ৩০ দিন এবং একাধিক প্রবেশের জন্য মেয়াদ ১ বছর বা তারও বেশি হতে পারে।

সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি

কর্নেল আল কান্দারি জানান, এই নতুন নীতি কুয়েতের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও পর্যটন খাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলে কেবল কুয়েতই একমাত্র দেশ যেখানে এখনো ইসরায়েলের নাগরিকদের জন্য কোনো কূটনৈতিক বা ভ্রমণ সুবিধা নেই। যদিও ২০২০ সালের আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী দেশগুলো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে, কুয়েত সেখানে ব্যতিক্রম রয়ে গেছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত