ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাংলাদেশী প্রবাসীদের নিয়ে প্রশ্ন উঠলো মালয়েশিয়ার সংসদে

মো : মারুফ হোসেন
মো : মারুফ হোসেন

সিনিয়র রিপোর্টার

২০২৫ আগস্ট ১৪ ১৯:২৪:৫০

বাংলাদেশী প্রবাসীদের নিয়ে প্রশ্ন উঠলো মালয়েশিয়ার সংসদে

নিজস্ব প্রতিবেদক: মালয়েশিয়ায় প্রবেশের সময় বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার পর্যটকরা কেন অতিরিক্ত প্রশ্ন, ব্যাপক তল্লাশি ও যাচাই-বাছাইয়ের মুখোমুখি হচ্ছেন—এ নিয়ে দেশটির সংসদে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য দাতুক সেরি শাহিদান কাসিম সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, “চীনা পর্যটকদের তুলনায় এই দেশগুলোর নাগরিকদের এত কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হবে কেন?”

বুধবার (১৩ আগস্ট) সংসদ অধিবেশনে মালয়েশিয়া বর্ডার কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রোটেকশন এজেন্সির (এমবিসিপিএ) মহাপরিচালক দাতুক সেরি শুহাইলি মোহাম্মদ জইনের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমরা চাই আইন সবার জন্য সমান হোক। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, কিছু দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে আলাদা আচরণ করা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির জন্য ভালো নয়।”

সংসদে তোলা পরিসংখ্যানও ভয়াবহএমবিসিপিএর তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ জুন কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক দিনে ২৭৯ জন বিদেশিকে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়—যা সংস্থাটির ইতিহাসে একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যা। এর মধ্যে ২৪০ জনই বাংলাদেশি, ৩৩ জন পাকিস্তানি এবং ছয়জন ভারতীয় ছিলেন।

১৫ জুলাই আবার বড় অভিযান চালানো হয়, যেখানে ট্রানজিট সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগে ১৪১ জন আটক হন। এদের মধ্যে ৯৪ জন ভারতীয়, ৪১ জন ইন্দোনেশীয় এবং শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের তিনজন করে নাগরিক ছিলেন।

২৫ জুলাইয়ের অভিযানে চিত্র আরও উদ্বেগজনক হয়। কেএলআইএ টার্মিনাল-১ থেকে আটক ১২৮ জন বিদেশির মধ্যে ১২৩ জনই বাংলাদেশি। এছাড়া ছিলেন দুই পাকিস্তানি, একজন সিরীয় ও দুই ইন্দোনেশীয় নাগরিক। একই দিনে টার্মিনাল-২ থেকে আটক হন ৭০ জন যাত্রী, যার মধ্যে ৫১ জন ইন্দোনেশীয়, ১৩ জন ভারতীয়, চারজন পাকিস্তানি এবং দু’জন ভিয়েতনামী।

সরকারি তথ্য বলছে, ৬ মাসেই ১০ হাজারের বেশি ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছেমালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মোট ১০,৬৭৮ জন পর্যটককে দেশে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষণবিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের কঠোরতা আংশিকভাবে অবৈধ অভিবাসন ও শ্রমবাজারের সুরক্ষার জন্য হলেও, কিছু দেশের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কড়াকড়ি কূটনৈতিক সম্পর্ক ও পর্যটন খাতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিরোধী দলীয় নেতারা বলছেন, যদি বৈষম্যমূলক আচরণ চলতে থাকে, তাহলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে মালয়েশিয়ার সম্পর্ক টানাপড়েনের মুখে পড়তে পারে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত