ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দীর্ঘদিন বন্ধ আমিরাতের শ্রম ভিসা, অনিশ্চয়তায় লাখো বাংলাদেশি প্রবাসী

২০২৫ আগস্ট ১১ ১৬:২৪:০৩

দীর্ঘদিন বন্ধ আমিরাতের শ্রম ভিসা, অনিশ্চয়তায় লাখো বাংলাদেশি প্রবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বড় শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১০ লাখের বেশি বাংলাদেশি প্রবাসী থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশিদের জন্য শ্রম ভিসা বন্ধ রয়েছে। এতে ভিসা নবায়ন বা নতুন ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে মারাত্মক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন তারা।

২০১২ সালে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের জন্য সব ধরনের ভিসা বন্ধ করে দেয় আমিরাত সরকার। এক দশকেরও বেশি সময় পর ২০২০ সালের শেষ দিকে সীমিত সময়ের জন্য ভিসা চালু হলেও বর্তমানে শ্রম ভিসা ইস্যু পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে শুধু দুবাই স্টেটের জন্য সীমিত আকারে স্কিল বা হাই প্রোফাইল ভিসা খোলা থাকে, তবে তা মাঝেমধ্যে বন্ধ হয়ে যায়।

ইউএই’র ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি, সিটিজেনশিপ, কাস্টমস অ্যান্ড পোর্টস সিকিউরিটির (আইসিপি) সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশ সরকারের আন্তর্জাতিক-বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী জানান, দেশটিতে মোট ভিসা লঙ্ঘনকারীর মধ্যে ২৫ শতাংশের বেশি বাংলাদেশি, যা ভিসা নীতিতে কড়াকড়ির অন্যতম কারণ।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত তারেক রহমান বলেন, “ভিসা খোলার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে আমিরাত সরকারের হাতে। তবে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য ভিসা পুনরায় চালুর লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।” তিনি প্রবাসীদের দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান।

স্থানীয় প্রবাসী নেতারা বলছেন, ভিসা বন্ধের কারণে বাংলাদেশি মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মী সংকট দেখা দিয়েছে, ফলে পাকিস্তান ও ভারতের শ্রমিক দিয়ে ব্যবসা চালাতে হচ্ছে। এতে সেবা প্রদানে সমস্যা, কর্মসংস্থানের সুযোগ হ্রাস এবং ব্যক্তিগত জীবনে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

প্রবাসীদের দাবি, অন্তত অভ্যন্তরীণ ট্রান্সফার ভিসা চালুর ব্যবস্থা করা হোক, যাতে মালিক পরিবর্তনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখা যায়। তারা সতর্ক করে বলেন, এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধাক্কা লাগতে পারে, যা অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত