ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আমিরাতের বিমানে আসলে কি হয়েছিলো, জেনেনিন আসল তথ্য

২০২৫ আগস্ট ০৮ ২০:০৩:৪৭

আমিরাতের বিমানে আসলে কি হয়েছিলো, জেনেনিন আসল তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুদানের সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, তারা কলম্বিয়ান ভাড়াটে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বিমান গুঁড়িয়ে দিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, বিমানটি দক্ষিণ দারফুরের নিয়ালা বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বোমা হামলায় ধ্বংস হয় এবং এতে অন্তত ৪০ জন নিহত হন। তবে আরব আমিরাত এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিমানটি যে আরব আমিরাত থেকে ছেড়ে আসে, তা নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে। সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে এএফপির খবরে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় একটি বিমানঘাঁটি থেকে রওনা দেওয়া বিমানটি আরএসএফ (র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স)-এর জন্য কলম্বিয়ান ভাড়াটে সেনা এবং উন্নত অস্ত্র ও ড্রোন নিয়ে যাচ্ছিল। এই আরএসএফ বিদ্রোহী বাহিনী ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে জড়িত এবং নিয়ালা অঞ্চলটি বর্তমানে তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সরকারি বাহিনীর অভিযোগ, আমিরাত আরএসএফকে চীনা ড্রোনসহ উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র সরবরাহ করছে এবং দক্ষিণ দারফুরের বিমানবন্দরকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক গবেষণা ল্যাবের স্যাটেলাইট ছবিও এই দাবিকে কিছুটা সত্যতা দেয়, যেখানে বিমানবন্দরে চীনা তৈরি দূরপাল্লার ড্রোন মোতায়েন থাকার প্রমাণ মিলেছে।

অন্যদিকে, আমিরাতের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।" দেশটির পক্ষ থেকে এমনকি বিবৃতিও দিয়ে বলা হয়েছে, এমন কোনো ঘটনার সত্যতা নেই, এবং এগুলো রাজনৈতিকভাবে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা।

এদিকে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রো এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, তাঁর সরকার খতিয়ে দেখছে—এই হামলায় কতজন কলম্বিয়ান নিহত হয়েছেন এবং প্রয়োজনে মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও নেওয়া হবে। জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের তথ্যমতে, ২০২৪ সাল থেকে কলম্বিয়ার ভাড়াটে সেনারা সুদানের দারফুর অঞ্চলের বিভিন্ন যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে।

এই ঘটনার মাধ্যমে একদিকে যেমন মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন মাত্রা পেয়েছে, তেমনি আফ্রিকার সুদানে চলমান গৃহযুদ্ধ আন্তর্জাতিককরণের দিকে ধাবিত হচ্ছে। আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ সহযোগিতার অভিযোগ, এবং এর সঙ্গে কলম্বিয়ান সেনাদের সম্পৃক্ততা—এই দুইয়ের সম্মিলিত রেশ ভবিষ্যতের জন্য একটি বিপজ্জনক বার্তা হতে পারে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত